বুধবার, জুন ১৭

সংসদ অসার গল্প-কবিতার আসর নয়, জনস্বার্থে আইন প্রণয়নের পবিত্র স্থান

সংসদ দেশের পবিত্রতম স্থান। একটি দেশ কিভাবে পরিচালিত হবে দেশের জনগণ তাদের ব্যক্তিগত পারিবারিক সামাজিক রাষ্ট্রীয় জীবন কি করে সুন্দরভাবে পরিচালনা করবেন তাদের শিক্ষা সংস্কৃতি কি হবে দেশের জনগণ দল ধর্ম নির্বিশেষে সকলের কিভাবে ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে পারবে সে বিষয়ে সঠিক সুষ্ঠু নীতি প্রণয়নের পবিত্রতম স্থান হল সংসদ।

সংসদে যারা বসেন সংরক্ষিত আসনসহ তাদের সংখ্যা ৩৫০। এ ৩৫০ জন সাংসদের পাঁচ বৎসর সরকারি বাসভবনে অবস্থান তাদের গাড়ি বাড়ি সংরক্ষণ তাদের নিরাপত্তা বিধান অর্থাৎ তাদের সার্বিক সেবায় নিয়োজিত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারী মিলে কয়েক হাজার লোকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এতে।

সব মিলিয়ে একজন সাংসদের পিছনে সরকারি দৈনিক হপ্তায় মাসে বছরে এবং পাঁচ বছরে কত অর্থ জনগণের ব্যয় হয় সেটা জনগণ না জানলেও সাংসদদের অন্তত কিছু ধারণা তো অবশ্যই আছে বলে মনে করি।

কিন্তু এই সংসদে বসে কিছু কিছু সাংসদ কি করেন, তা জনগণ দেখে আসছে। তারা নিজের গুণগান পারিবারিক ঐতিহ্যের বর্ণনা এমনকি তাদের কয়টি বাড়ি গাড়ি স্ত্রী সন্তান পরিজন আছেন পরিবারে কয়জন মন্ত্রী মিনিস্টার আছেন তার বর্ণনাও বাদ যায়না তাদের আলোচনা থেকে।

তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনগণের প্রয়োজনীয় কথা বাদ দিয়ে তাদের নেতা-নেত্রীর গুণগান বিরোধী দলের বদনাম তাদের ব্যক্তি আক্রোশ দলীয় আক্রোশ একদল আরেকদলের প্রতি কাঁদা ছুড়াছুড়ি কারো ব্যক্তি জীবন পারিবারিক এবং রাজনৈতিক জীবন নিয়েও নিয়ে সমালোচনা পর্যালোচনা জুতা ছুড়াছড়ি করতে জনগণ দেখেছেন একবার নয় বহুবার।

জনগণ আসলে এগুলো আর দেখতে চায় না। তারা এজন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করে নির্বাচনে পার করে তাদেরকে সংসদে পাঠান নি। তারা চায় দেশ জাতি ধর্ম দল মত নির্বিশেষে সবার ভাগ্যের উন্নয়নের আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত হোক সংসদে। সংসদ হোক আইন বিধি প্রণয়নের সূতিকাগার।

এজন্যে সংসদ বিষয়ে আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান থেকে দু একটি প্রস্তাবনা দিতে চাই।

১. সাংসদদের বক্তব্যে হতে হবে লিখিত।

২. কোন আলোচ্য বিষয়ে কোন সাংসদের কি বক্তব্য হবে তা দলীয় প্রধানের মাধ্যমে স্পিকারের কাছে জমা দিবেন। মাননীয় স্পিকারের অনুমোদন ব্যতীত কোন বক্তব্য প্রদান করা যাবে না।

৩. এক্সপান্স করতে হবে এমন কোন বক্তব্য প্রদান করা যাবে না।

৪. ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানবে এমন বক্তব্য পরিহার করতে হবে।

৫. জাতীয় কমনবিষয় আলোচনায় সাংসদের বক্তব্যের বিষয় নির্ধারণ করে দিতে হবে।

৬. একজন সাংসদ তার পাঁচ মিনিট বক্তব্যে ১৫-২০ বার “মাননীয় স্পিকার” বলে থাকেন। বক্তব্যের শুরুতে মাননীয় স্পিকার সম্বোধনই যথেষ্ট হয় কিনা বিষয়টি বিবেচনা আনা যেতে পারে। এতে অনেক সময় বেঁচে যাবে।

৭. সংসদী এলাকার কমন ইস্যু /দাবী দাওয়া সাংসদগণ লিখিতাকারে মাননীয় স্পিকারের কাছে জমা দিবেন। মাননীয় স্পিকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর মাধ্যমে দাবিগুলো একসাথে আলোচনা করবেন।

৮. অধিবেশনের নির্ধারিত আলোচ্য বিষয় অধিবেশন শুরুর অন্তত ১৫ দিন আগে প্রতিটি সাংসদের কাছে পৌঁছে দিবেন।

৯. আলোচ্য বিষয়ে ব্যক্তিগত নয় কমন কোন বিষয় বাদ পড়লে যে কোন সাংসদ সেবিষয়ে স্পিকার মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন।

১০. খাজুরে গল্প/অহেতুক বক্তব্য নয়। বক্তব্য হতে হবে তত্ত্ব ও তথ্যসমৃদ্ধ পরামর্শমূলক।

১১. নিজ দলীয় প্রধান বা কারো ব্যক্তিগত পছন্দনীয় লোকের আর কোন প্রশংসা নয়। নিজের যোগ্যতা পারিবারিক ঐতিহ্য ইত্যাদির কোন বিবরণ বক্তব্যে থাকা যাবে না।

১২. প্রথমবার সংসদে এসেছেন এমন সাংসদদের নিয়ে সংসদের আচরণ বিধি বিষয়ে অবগত করতে বিশেষ অধিবেশন করা যেতে পারে। যেখানে প্রাক্তন অভিজ্ঞ সাংসদ/ মন্ত্রীগণ পরামর্শ দিবেন।

এভাবে সংসদকে কার্যকর করা যেতে পারে। এতে দেশ জাতি অনেক সময় এবং অর্থ অপচয় হতে নিষ্কৃতি পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *