মঙ্গলবার, মে ৫

শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদে উত্তপ্ত দুপচাঁচিয়া, ধর্ষক গ্রেপ্তার

|| মোস্তফা আল মাসুদ | বগুড়া প্রতিনিধি ||

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় সাত বছর বয়সী শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদে থানা ঘেরাও, সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে শিক্ষক, অভিভাবক, গ্রামবাসী একাট্টা হয়ে মিছিল বের করে।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের দুপচাঁচিয়া থানা বাসস্ট্যান্ড এলাকা প্রায় এক ঘন্টা অবরোধ করে রাখে বিক্ষুব্ধরা। এতে সড়কের দুপাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। দ্রুত বিচার আইনে আসামির শাস্তির আশ্বাস দিয়ে উত্তেজিত পরিস্থিতি শান্ত করে পুলিশ। অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলেও ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে অনড় বিক্ষুব্ধরা।

এরআগে, সোমবার সন্ধ্যায় দুপচাঁচিয়া পৌর এলাকার ধাপ-সুখানগাড়ী মহল্লায় শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। রাতে থানায় মামলা দায়ের হলে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ধর্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযুক্ত ইদ্রিস আলী (৬০) নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার হলুদ বিহার এলাকার মৃত আক্কাস আলীর ছেলে। তিনি ব্র্যাক দুপচাঁচিয়া শাখার সাবেক হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা। বর্তমানে ধাপ-সুখানগাড়ী মহল্লার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।

মামলা সূত্র জানায়, উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে গৃহশিক্ষিকা গুলশান আরা আন্না নিয়মিত প্রাইভেট পড়াতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শিশু তার কাছে পড়তে যায়। গৃহশিক্ষিকার অনুপস্থিতির সুযোগে শিশুকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়। অভিযুক্ত ইদ্রিস আলী ওই গৃহশিক্ষিকার স্বামী। এ ঘটনায় রাতেই শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

স্থানীয়রা জানান, শিশু ধর্ষণের ঘটনা জেনে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন মহল্লার বাসিন্দারা। মঙ্গলবার বিক্ষোভে স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকরা একাট্টা হন। বিক্ষুব্ধরা প্রথমে থানায় গিয়ে ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে অবস্থান নেয়। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয় চত্বরে জড়ো হন। সকল শ্রেণি-পেশার জনতা একত্রিত হয়ে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে খন্ড খন্ড অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে।

এ প্রসঙ্গে দুপচাঁচিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজমিলুর রহমান জানান, শিশু ধর্ষণ মামলার পরই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। উত্তেজিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করায় কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিক্ষুব্ধরা অবরোধ তুলে নেওয়ায় সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *