Monday, July 20

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে পুরোদমে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পুরোদমে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত মাসে স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) আর কার্যকর নেই বলে দুই পক্ষই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চরম আকার ধারণ করেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স, আলজাজিরা ও এএফপির তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার টানা সপ্তম দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর জবাবে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং বিভিন্ন দেশের তেল ও বিদ্যুৎ স্থাপনাসহ বেসামরিক অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন হামলা আর দু-তিন দিন অব্যাহত থাকলে তেহরান ‘সর্বাত্মক অভিযান’ শুরু করবে। অন্যদিকে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করায় তেহরানও সমঝোতার সব অঙ্গীকার স্থগিত করেছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের হামলায় ইরানের নজরদারি ব্যবস্থা, সামরিক রসদ ও ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভান্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ইরান অভিযোগ করেছে, মার্কিন বাহিনী এখন বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি শোধনাগারের মতো বেসামরিক স্থাপনাকেও নিশানা করছে। গত ৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই নতুন সংঘাতে ইরানে অন্তত ৫০ জন নিহত ও ৫০০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, জর্ডানে ইরানের হামলায় নতুন করে দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার ফলে সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৬ জন মার্কিন সেনা নিহত হলেন।

মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কুয়েতের তেল ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি এবং জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া প্রায় তিন মাস পর প্রথমবারের মতো সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি ও লোহিত সাগর উপকূলীয় এলাকায় ইরানের হামলার খবর পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক কোনো সংগঠনের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় সংঘাতটি ধীরে ধীরে একটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *