
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাত আপাতত স্থগিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নৌযান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া এবং নতুন করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার শঙ্কায় বাজারে এখনো সতর্ক অবস্থান ধরে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।
সোমবার (২৭ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৬ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল লেনদেন হচ্ছে ৮৪ ডলারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যবর্তী সংঘাত থামায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি ও আস্থা ফিরে এসেছে। এর ফলে তেলের দরপতনের পাশাপাশি বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এশিয়ার পাশাপাশি ইউরোপীয় এবং মার্কিন ফিউচার্স মার্কেটেও সূচক ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি শঙ্কাও রয়ে গেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো বেশ সীমিত। সিএনএনের শিপিং তথ্য অনুযায়ী, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০টি বাণিজ্যিক জাহাজ এ পথ ব্যবহার করত, সেখানে সপ্তাহান্তে মাত্র ১০টিরও কম জাহাজ পার হতে দেখা গেছে।
পাশাপাশি লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। জার্মানির ডয়চে ব্যাংকের বিশ্লেষকেরা এক প্রতিবেদনে জানান, প্রধান দুই পক্ষের যুদ্ধ থামলেও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি রফতানি পথগুলো এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছে।
সার্বিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও জ্বালানি পরিবহন পথগুলোর অনিশ্চয়তা পুরোপুরি দূর না হওয়ায় যেকোনো নতুন সামরিক উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়ে গেছে।
সূত্র: সিএনএন
