Sunday, August 30

জমি কিনেই বিপাকে ব্যবসায়ী, একের পর এক মামলার অভিযোগ

|| তজুমদ্দিন (ভোলা) সংবাদদাতা ||

ভোলার তজুমদ্দিনে ওয়ারিশের কাছ থেকে জমি কেনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। একই বাদী, একই আসামি ও প্রায় একই ব্যক্তিদের সাক্ষী করে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এসব মামলাকে হয়রানিমূলক দাবি করে প্রতিকার চেয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন তজুমদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী মো. শরীফ হাওলাদার ও তার সহোদররা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ঘোষের হাওয়া গ্রামের বাসিন্দা অলিউল্লাহ ২০২৪ সালে একই গ্রামের অজুফার ওয়ারিশ ইকবাল হোসেনের কাছ থেকে চাঁদপুর মৌজার ১৪৮ নম্বর খতিয়ানের ১০৯৬ নম্বর দাগের ১৮ শতাংশ জমি ১৩৫৫ নম্বর দলিলমূলে ক্রয় করেন। পরবর্তীতে নামজারি ও অনলাইন রেকর্ডের মাধ্যমে জমিটি ক্রেতার নামে নতুন খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর থেকেই জমি নিয়ে শরীফদের সঙ্গে শামসুদ্দিন-কাশেম গংয়ের বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমি কেনার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আবুল কাশেম শরীফের দোকানের বকেয়া ২ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা পরিশোধ বন্ধ করে দেন। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ-বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

এরই মধ্যে শামসুদ্দিন বাদী হয়ে ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে একটি মারামারির ঘটনা দেখিয়ে তজুমদ্দিন জুডিসিয়াল আদালতে সিআর মামলা নং-০২/২০২৬ দায়ের করেন। মামলায় মো. শরীফ, মো. সোহেল, মো. আরিফ ও তাদের পিতা অলিউল্লাহকে আসামি করা হয়। মামলায় বাদীর ভাই-বোন ও ভাগিনাকে সাক্ষী করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এরপর ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে একই স্থানে আরেকটি মারামারির ঘটনা দেখিয়ে বিভিন্ন ধারায় আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়। তজুমদ্দিন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা ওই মামলার নম্বর সিআর-২০৮/২০২৬। এ মামলাতেও আগের মামলার মতো শরীফ, সোহেল, আরিফ ও তাদের পিতা অলিউল্লাহকে আসামি করা হয়েছে। সাক্ষী করা হয়েছে শামসুদ্দিনের ভাই মো. আরিফ, মো. আব্বাস, বোন তাহেরা, লাইজু আক্তার ও ভাগিনা মো. রাসেলকে।

ঘটনাস্থল নিয়ে স্থানীয়দের ভিন্ন বক্তব্য
মামলার ঘটনাগুলো সম্পর্কে জানতে সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়ে ঘটনাস্থলের আশপাশের বাসিন্দা মো. শাহ আলম, মো. রফিক, আলম সর্দার, মো. ইব্রাহিম, রোকেয়া বেগম ও ময়ফুলসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়।

তাদের কয়েকজন জানান, প্রায় দুই বছর আগে ইকবাল হোসেনের কাছ থেকে জমি বুঝে নিয়ে শরীফরা ভোগদখল করে আসছেন। জমি কেনার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয় এবং বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা স্থানীয় সালিশও হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, তারা ঘটনাস্থলে কোনো মারামারি দেখেননি; এমনকি মামলায় উল্লেখ করা ঘটনার বিষয়ে এলাকার অনেকেই কিছু জানেন না। পরে আদালতে মামলা দায়েরের বিষয়টি তারা জানতে পারেন। পৃথক মামলাগুলোতে একই বাদী, একই আসামি এবং একই পরিবারের লোকজনকে সাক্ষী করা হয়েছে বলেও তারা জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী শামসুদ্দিন বলেন, “আমার ফুফু ওই দাগে জমি পাবেন না। তারা জোর-জবরদস্তি করছেন। ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে না। যে ঘটনা ঘটেছে, তা মামলার কপিতে উল্লেখ করেছি।”

তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “বাজারের ব্যবসায়ী মো. শরীফ হাওলাদার পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ করা হয়েছে। এসআই সুমনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, জমির মালিকানা ও মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হয়রানিমূলক মামলা হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে এবং অভিযোগের সত্যতা থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *