
|| এস এম শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||
খুলনা সদর সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মন্ডলকে অফিসের সামনে থেকে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় যুবক নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় রহস্য তৈরি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। পরে প্রায় ৪০ মিনিট পর সাব-রেজিস্ট্রার নিজেই অফিসে ফিরে আসেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, তাঁকে অপহরণ করা হয়নি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে খুলনা সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে খাবারের উদ্দেশ্যে কার্যালয় থেকে বের হয়ে রিকশায় ওঠেন সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মন্ডল। এ সময় দুই যুবক তাঁকে অফিসের পূর্ব পাশের একটি গলির দিকে নিয়ে যান। বিষয়টি দেখে অফিসের এক ক্লার্ক এগিয়ে গেলে ওই যুবকদের সঙ্গে তাঁর কথাবার্তা হয়। পরে তিনি কার্যালয়ের দিকে ফিরে যান।
এরপর সাব-রেজিস্ট্রারকে নিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে খুলনা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ ঘটনাটি অনুসন্ধান শুরু করার মধ্যেই আনুমানিক বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে তন্ময় কুমার মন্ডল কার্যালয়ে ফিরে আসেন।
পরে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরে সাব-রেজিস্ট্রার বলেন, “আমি লাঞ্চের জন্য বের হয়েছিলাম। তখন কিছু লোক আমাকে সামনে যেতে বলে। তাদের সঙ্গে নদীর পাড়ের দিকে যাই। তারা কিছু ডকুমেন্ট দেখায়। আমি ডকুমেন্টগুলো দেখি। এরপর চলে আসি।”
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাঁকে অপহরণ করা হয়নি।
তবে ঘটনাটিকে ঘিরে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজে ভিন্ন ধরনের কিছু দৃশ্য দেখা গেছে বলে জানা গেছে। ফুটেজে একটি চলন্ত রিকশায় সাব-রেজিস্ট্রারের পাশে একজন যুবককে বসে থাকতে দেখা যায়। তাঁর কোলে আরেকজন বসা ছিলেন। একই সময়ে মুখ বাঁধা এক যুবককে রিকশার সামনে দিয়ে দৌড়ে যেতে দেখা যায়।
অন্য একটি দৃশ্যে মাস্ক পরা এক যুবকের মোটরসাইকেলে সাব-রেজিস্ট্রারকে ওঠার জন্য বলা হচ্ছে বলেও দেখা গেছে।
ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ বলছে, সাব-রেজিস্ট্রার নিজে কোনো অভিযোগ করেননি। তবে কার্যালয় থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি অনুসন্ধান শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সাব-রেজিস্ট্রারের দেওয়া তথ্যের মধ্যে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার পুলিশকে জানিয়েছেন, কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে ডকুমেন্ট দেখানোর জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁকে কোনো ধরনের আঘাত করা হয়নি বলেও তিনি জানিয়েছেন। পরে ওই ব্যক্তিরা তাঁকে ছেড়ে দিলে তিনি নিজেই অফিসে ফিরে আসেন।
ওসি বলেন, ঘটনাটি নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে। প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল, কেন তাঁকে কার্যালয়ের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় জড়িত কি না, তা তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে।
পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাটির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও নেওয়া হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
