Tuesday, August 18

ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে নিজস্ব অর্থায়নে যেতে হবে: অর্থমন্ত্রী

|| অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক ||

রাজস্ব ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে নিজস্ব অর্থায়ননির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, রাজস্ব আদায় বাড়াতে করের আওতা সম্প্রসারণ, কর অব্যাহতির যৌক্তিকীকরণ, কর ফাঁকি রোধ ও পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন নিশ্চিত করা হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “রাজস্ব সম্মেলন শুধু আদায়ের হিসাব-নিকাশের কোনো অনুষ্ঠান নয়, এটি জাতীয় ঐকমত্য গঠনের একটি প্ল্যাটফর্ম। কীভাবে নিজস্ব অর্থায়নে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা যায়, সেই পথ নির্ধারণে এ সম্মেলন ভূমিকা রাখবে।”

দেশের রাজস্ব ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৬.৮ শতাংশ থেকে কমে ৬.৭ শতাংশে নেমেছে, যা বিশ্বের অন্যতম নিম্ন। যেখানে ২০২৩ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে গড় কর-জিডিপি অনুপাত ছিল ১৯.৫ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশে তা ছিল মাত্র ৭.২ শতাংশ।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, “অর্থনীতির আকার বাড়লেও সে অনুযায়ী রাষ্ট্রের রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বাড়েনি। এই ব্যবধান কমাতে বিদ্যমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা না চাপিয়ে করের আওতা বাড়ানো, কর ফাঁকি বন্ধ এবং অটোমেশনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা আনাই প্রধান লক্ষ্য।”

রাজস্ব প্রশাসনের সংস্কার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে— একটি ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ এবং অন্যটি ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *