Sunday, September 20

সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগে কুরআনিক স্টাডিজ কোর্স বাধ্যতামূলক সময়ের দাবি

দেশে আজ ৯০% মুসলমান। মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ আল কুরআন। মুসলিম দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় সংখ্যা সরকারি বেসরকারি মিলে দেড় শতাধিক।

অথচ মুসলমানদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান- বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায় শতটি বিভাগ কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু রয়েছে, কিন্তু কোনো বিভাগেই কুরআনিক স্টাডিজ বা ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক কোনো কোর্স নেই। যার কারণে আমাদের সন্তানরা ধর্ম সম্পর্কে যেমন অজ্ঞ থাকছে, নৈতিকতার দিক থেকে তারা তেমনি পিছিয়ে যাচ্ছে।

ধর্ম শিক্ষাবিহীন আমাদের এই সন্তানরাই পরবর্তীতে সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করছেন। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কোনটি উচিৎ-অনুচিৎ কোনটি বৈধ-অবৈধ কোনটি হালাল-হারাম তাদের এগুলো বাচ বিচার করার ক্ষমতা দিন দিন লোপ পাচ্ছে।

প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এ বিষয়টি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর একমাত্র কারণ সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে কোথাও ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। আর কলেজে একেবারেই ঐচ্ছিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরবি ইসলামিক স্টাডিজ ছাড়া আর কোনো বিভাগে ধর্মীয় কোনো কোর্স বাধ্যতামূলক নেই।

বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন খণ্ড চিত্র থেকে এ বিষয়টি আরো স্পষ্ট হচ্ছে যে, ধর্মীয় শিক্ষা না থাকার কারণে আমরা দিন দিন ধর্মের মৌলিক বিধান তো মানছিই না, বরং ধর্মের বিরুদ্ধে কোনো কথা বা কাজ করতেও দ্বিধা করছি না।

সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশে এ বিষয়গুলো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছে বিধায় সাধারণ মুসলিমরাও সাধারণ শিক্ষা বিষয়ে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করা শুরু করছে।

এতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে সাধারণ মুসলিমদের নেতিবাচক ধারণা থাকার কারণে তারা সাধারণ শিক্ষা থেকে আস্তে আস্তে নিজেদেরকে গুটিয়ে নিচ্ছে এবং মাদ্রাসার শিক্ষার দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র হ্রাস পাওয়া এবং মাদ্রাসাতে ছাত্রবৃদ্ধি হওয়ার মূল কারণ এটিই।

সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সকল বিভাগে কুরআনী স্টাডিজ/ ধর্মীয় কোর্স /নৈতিকশিক্ষা কোর্স (অন্যান্য ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য) বাধ্যতামূলক সময়ের দাবি।

অন্যথায় ফিডার প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক বিদ্যালয় নয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ধীরে ধীরে শিক্ষার্থী হ্রাস পাবে এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছুই থাকবে না।

লেখক: সাবেক ডিন, থিওলজী এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ও অধ্যাপক, আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *