
|| ধর্ম ডেস্ক ||
নিকাহনামা বা কাবিননামায় অনেক সময় স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক নানা শর্ত উল্লেখ থাকে। যেমন—নির্দিষ্ট কোনো স্থানে বসবাস, লেখাপড়া বা চাকরি চালিয়ে যাওয়া কিংবা বিশেষ কোনো ভরণপোষণের নিয়ম। তবে কোনো পক্ষ—বিশেষ করে স্ত্রী যদি কাবিননামা বা স্বামীর দেওয়া শর্ত লঙ্ঘন করেন, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা বিনা তালাকে সেই বিয়ে ভেঙে যায় না।
ইসলামি শরিয়তে দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি ঘটানোর জন্য সুনির্দিষ্ট তালাকের বিধান রয়েছে। শরিয়ত ও পারিবারিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শর্ত ভাঙলেই বিনা তালাকে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার তথ্যটি সম্পূর্ণ ভুল। কোনো শর্ত ভঙ্গ হলে সংক্ষুব্ধ পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করতে পারেন। যদি বিচ্ছেদ করতেই হয়, তবে অবশ্যই শরিয়ত ও আইনসম্মত উপায়ে তালাক বা আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় মুখে মুখে বা শর্ত ভাঙার অজুহাতে বিনা তালাকে আলাদা হয়ে গেলে কিংবা নতুন করে অন্য কোথাও বিয়ে করলে তা আইন ও শরিয়ত উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই অবৈধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
ইসলামি বিধান মতে, তালাক স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্নকারী একটি চূড়ান্ত পদক্ষেপ। দাম্পত্য জীবনের সমস্যা সমাধানের কোনো পথ না থাকলে তবেই তালাক দেওয়ার অনুমতি রয়েছে। হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, “আল্লাহর কাছে বৈধ বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে অপছন্দনীয় বিষয় হলো তালাক” (আবু দাউদ: ২১৭৮)। তাই সামান্য কোনো বিষয় বা ঘটনাকে কেন্দ্র করে হুট করে তালাক দেওয়া কিংবা তালাকের শর্তজুড়ে দেওয়া অত্যন্ত অনুচিত ও গুনাহের কাজ।
যেমন—কোনো স্বামী যদি স্ত্রীকে নির্দিষ্ট কোনো স্থানে যাওয়ার ব্যাপারে শর্তযুক্ত করে বলেন যে, “অনুমতি ছাড়া সেখানে গেলে তালাক হয়ে যাবে”, সে ক্ষেত্রে স্বামীর অনুমতি ছাড়া গেলে তালাক পতিত হবে। কিন্তু স্বামী যদি পরবর্তীতে তাকে ব্যাপকভাবে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে দেন, তবে আর তালাক পতিত হবে না (ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪৩৯)।
অতএব, যে কোনো শর্ত ভঙ্গের ক্ষেত্রেই স্বয়ংক্রিয় বিচ্ছেদ ঘটে না; দাম্পত্য সম্পর্কের চূড়ান্ত অবসানের জন্য আইন ও শরিয়তসম্মত উপায়ে তালাকের প্রক্রিয়াই আবশ্যক।
