
|| রাজিবুল হাসান | নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা) ||
ভোরের রক্তিম সূর্যের আলোয় নতুনের আবাহন আর সম্প্রীতির ডাক দিয়ে শুরু হলো আরও একটি নতুন বাংলা বছর। বাঙালির ঐতিহ্যের ধারক ছায়ানটের আয়োজনে রাজধানীর রমনার বটমূলে বরাবরের মতো এবারও সাড়ম্বরে উদযাপিত হয়েছে বর্ষবরণ উৎসব। ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’—সুরের এই চিরন্তন আহ্বানে ঢাকা মেতে ওঠে প্রাণের উৎসবে।
এবারের বর্ষবরণ আয়োজনে ছায়ানটের প্রায় ২০০ জন শিল্পী অংশ নিয়েছেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে যন্ত্রসংগীতের ধ্রুপদী মূর্ছনার মধ্য দিয়ে ভোরের স্নিগ্ধতাকে স্বাগত জানানো হয়। এরপর শিল্পীদের সম্মিলিত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় রবিঠাকুরের কালজয়ী গানসহ দেশপ্রেম ও প্রকৃতির বন্দনা।
শিল্পীদের নীল রঙের শাড়ি ও পাঞ্জাবির সুসংগত পোশাক রমনার সবুজ প্রকৃতির বুকে যেন একখণ্ড নীল আকাশ হয়ে ধরা দেয়। অনুষ্ঠানস্থলে মাঠের ঘাসে বসে মুগ্ধ হয়ে এই সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন রাজধানী ও আশপাশ থেকে আসা নানা বয়সী হাজারো মানুষ।
গান, কবিতা আর শুদ্ধ সংগীতের এই মেলবন্ধনে শিল্পীরা জরাজীর্ণ পুরনোকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরের নতুন স্বপ্ন আর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রত্যাশা তুলে ধরেন। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবের আমেজকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার এই চিরচেনা প্রথা শেষে উপস্থিত সবাই নতুন উদ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বটমূলের এই আয়োজন কেবল একটি উৎসব নয়, বরং এটি বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা আর আত্মপরিচয়ের এক শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ হয়ে ওঠে।
