Thursday, August 20

মিলাদুন্নবী: পর্ব-০৩ | বিশ্বনবী মুহাম্মদ মোস্তফা রাহমাতাল্লিল আলামিন (স.)

রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আইয়ামে জাহেলিয়ার যুগেও মরু আরববাসির নিকট চারিত্রিক গুণে প্রিয় হলেন। তাদের দেয়া আল আমিন নামে পরিচিতি লাভ করলেন। যুবক বয়সে আরবের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী খাদিজাতুল কুবরার ব্যবসায় জড়িত হয়ে আমানতদারির পরিচয় দিতে পেরেছিলেন। ব্যবসায় ব্যাপক সফলতা লাভ করেছিলেন। বিধবা খাদিজাতুল কুবরা যুবক মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সততা আমানতদারি ও চারিত্রিক গুণাবলী দেখে তাঁর প্রতি সম্মান শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বেড়ে গেল। খাদিজাতুল কুবরা তাঁকে প্রিয় পাত্র হিসেবে মনোনীত করলেন। খাদিজাতুল কুবরার পক্ষ থেকে রাসুলের অভিভাবক চাচা আবু তালেবের নিকট বিয়ের প্রস্তাব পাঠালেন। অভিভাবকদের মতামত নিয়ে বিয়ে সম্পন্ন হলো।

বিয়ের পর রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের বিরাট পরিবর্তন ঘটে গেল। পিতৃ ও মাতৃহারা মুহাম্মদ চাচা আবু তালেবের অভাবের সংসারে তার ছত্রছায়ায় ছিলেন। আজ তিনি পেয়ে গেলেন নতুন করে একজন জীবন সঙ্গীনি, অভিভাবক, পরামর্শক। শুধু তা নয়, খাদিজাতুল কুবরা ঘোষণা দিলেন আজ থেকে আমার সম্পদের সবকিছু আপনার নিকট অর্পিত করা হলো। এর মালিকানা, দায়-দায়িত্ব রক্ষণাবেক্ষণ সবকিছু আপনারই। খাদিজাতুল কুবরা তার কৃতদাস যায়েদ বিন হারিসাকে রাসুলকে উপহার স্বরূপ অর্পণ করলেন। এতদিন তিনি মানুষের মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে যে চিন্তা করতেন তারই একটি প্রতিফলন ঘটালেন। তিনি যায়েদ বিন হারিসাকে কৃতদাস থেকে মুক্ত করে দিলেন। তাকে পালক পুত্র হিসেবে রেখে দিয়ে, ক্রীতদাসকে পুত্রের মর্যাদা দিলেন।

মুহাম্মদ সা. যে মিশন নিয়ে অগ্রসর হচ্ছিলেন, আজকের দিনে তার অভাব পূর্ণতা, সঙ্গীনি, পরামর্শক পেয়ে, তার মিশনের কাজে পূর্বের চেয়ে বহুগুণ উৎসাহে জড়িত হলেন। ভোগ বিলাসে মত্ত না হয়ে, তিনি চিন্তা করলেন, আমাকে কে সৃষ্টি করল? কেন সৃষ্টি করল?আমার দায়িত্ব কর্তব্য কি? কেন মানবজাতির এই দুরবস্থা। তিনি কাল বিলম্ব না করে কাবা শরীফ থেকে অনতিদূরত্বে মক্কার হেরা পর্বত গুহায় নির্জনে একাকিত্বে ধ্যানে মগ্ন হলেন। (ইনশাআল্লাহ চলবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *