শুক্রবার, মে ১

মানিকগঞ্জে স্বাস্থ্যখাতে চরম নৈরাজ্য, শিশু হাসপাতালে শয্যা জালিয়াতির অভিযোগ

|| সেলিম মোল্লা | নিজস্ব প্রতিনিধি (মানিকগঞ্জ) ||

মানিকগঞ্জ জেলা শহরের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাত এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরকারি হাসপাতাল থেকে দালাল দিয়ে রোগী ভাগিয়ে আনা, লাইসেন্সের মেয়াদ ছাড়াই বছরের পর বছর কার্যক্রম চালানো এবং শয্যা জালিয়াতি করে বাণিজ্য করার মতো ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে মাসব্যাপী এক দীর্ঘ অনুসন্ধানে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিজয় মেলা মাঠ সংলগ্ন নগর ভবন সড়কের ‘অ্যাপোলো হাসপাতাল’-এর লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২০ সালের ৩০ জুন। চার বছর ধরে অবৈধভাবে চলা এই প্রতিষ্ঠানে নেই কোনো দক্ষ জনবল, নেই কোনো স্থায়ী সোনোলজিস্ট বা রেডিওলজিস্ট। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি ছাড়াই অদক্ষ কর্মীদের দিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাম ও এক্স-রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া ১০ শয্যার অনুমোদন থাকলেও সেখানে ১৭ শয্যা পরিচালনা করা হচ্ছে। একই দশা ‘মানিকগঞ্জ অর্থোপেডিক এন্ড জেনারেল হাসপাতাল’-এর; ২০২৩ সালে এই হাসপাতালটির লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়েছে ‘মানিকগঞ্জ শিশু এন্ড জেনারেল হাসপাতাল’-এ। ২০২৩ সালের জুনে এর লাইসেন্স শেষ হলেও নানা অনিয়মের দায়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নতুন করে কোনো অনুমোদন দেয়নি। সরেজমিনে দেখা গেছে, ২০ শয্যার অনুমোদন থাকলেও সেখানে প্রায় ৮০ শয্যায় রোগী ভর্তি রয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এতটাই যে, হাসপাতালের স্টোর রুম এবং নামাজের ঘরেও বেড পেতে রোগী রাখা হয়েছে। ৫ তলা ভবনের সব তলায় নার্স স্টেশন নেই; যে তলায় আছে সেখানে নার্সের বদলে কেবিন বানিয়ে রোগী রাখা হয়েছে। হাসপাতালটিতে নানা প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে অনুসন্ধানকালে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে হাসপাতালের দুই পরিচালক পালিয়ে যান এবং ম্যানেজার কাইয়ুম আলী ফাহাদ সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেন ও বসে মীমাংসা করার প্রস্তাব দেন। প্রশাসনিক পরিচালক পরিচয়দানকারী মো. জিয়াউল হক জুয়েল সাংবাদিকদের সাথে উদ্ধত আচরণ করেন। তিনি ২০ শয্যার জায়গায় ৮০ শয্যা চালানোকে ‘মানবসেবা’ বলে দাবি করেন, যদিও শয্যা জালিয়াতি ও সরকারের রাজস্ব ফাঁকির বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। হাসপাতালের আরেক পরিচালক মো. সেলিম মিয়া মুঠোফোনে লাইসেন্স না থাকা ও ২০ শয্যার অনুমোদনের সত্যতা স্বীকার করেন।

মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম মুফাখখারুল ইসলাম বলেন, এখানে বেশ কিছু অপরিকল্পিত হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। লাইসেন্স না থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত শয্যা পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *