বৃহস্পতিবার, জুন ২৫

মাজারে নয়: দান বাক্স স্থাপন হোক হাসপাতাল অনাথ আশ্রম এবং মসজিদে

মাজার অর্থ জিয়ারতের জায়গা। বাংলা অর্থ ভ্রমণস্থল। বাংলাদেশের মাজার বলতে কোন বিশেষ ব্যক্তির লালসালু আচ্ছাদিত উঁচু পাকা কবরকে বোঝায়।

বাংলাদেশ অলি আউলিয়ার দেশ। নিঃসন্দেহে তারা পূণ্য ব্যক্তি ছিলেন। আর পূণ্যবাণকে আল্লাহ তাআলা জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন আমিন।

মানুষ সরল বিশ্বাসে এসব মাজারে নজর নিয়াজ মান্নত দান খয়রাত করে থাকে। দান-খয়রাতের কোটি কোটি টাকার কোন হিসাব নেই।

এই মাজারের অর্থকে কেন্দ্র করে যেভাবে বিনা পুঁজিতে যুগ যুগ ধরে যে ব্যবসা চলে আসছে সে বিষয় দেশ জাতি প্রশাসন কেউ কোন খোঁজ খবর রাখে না।

সম্প্রতি মাত্র তিন দিনে মাজারে বাক্স ও ডেগে পাওয়া দানের নগদ হিসাবে দেখা যায়-

১. ১৭লক্ষ ৬৫হাজার ৫৪৯টাকা, ৭আনা স্বর্ণ ও কিছু সৌদি রিয়াল, ডলার পাউন্ড ইত্যাদি।
২. মাজারের গিলাফে প্রত্যেহ ৫/৬ লক্ষ টাকা।
৩. গম্বুজের নিচে গদি- তিন লাখ টাকা।
৪. কথিত রিসিটের মাধ্যমে–
গরু ছাগল হাস মোরগ মান্নত–

তিন দিনের মাত্র ৩০℅হিসেবে এসেছে। তাতে আনুমানিক প্রত্যেহ ২৫/৩০ লাখ টাকা মাজার সংশ্লিষ্ট কথিত মতোয়াল্লিসহ খাদেমগণ যুগ যুগ ধরে এগুলো গোগ্রাসে গিলে খাচ্ছে।

সেখানের সংশ্লিষ্ট খাদেম মোতাওয়াল্লীদের অধিকাংশই শরীয়ত সম্পর্কে কিছু জানে না, তারা নামাজ রোজার তেমন ধার ধারে না। এদের কেউ কেউ গাঁজা ভাঙ ইত্যাদিসহ নানাবিধ অপকর্মের সাথে জড়িত মর্মে অভিযোগ রয়েছে।

যে উদ্দেশ্যে মাজারে যায়, সে উদ্দেশ্য যে মোটেই সফল হয় না, তার প্রমাণ সম্প্রতি বাগেরহাট খানজাহান আলীর মাজারে ঘটে যাওয়া কুমির কর্তৃক মাজারে মান্নতকারী ব্যক্তির মেয়েকে গিলে ফেলা।

মাজারে গমনকারী মান্নতকারী দানকারী ব্যক্তিগণ তাদের বালা মুসিবত দূর হবে সন্তানহীন হলে সন্তান হবে মেয়ে থাকলে ছেলে হবে ছেলে থাকলে মেয়ে হবে ইত্যাদির কামনা বাসনা পূরণের জন্য যায়।

কিন্তু সেখানে রক্ষকই ভক্ষক হয়ে গেল। সে মান্নতকারীর মানত কুমিরকে ঠেকাতে পারল না। জ্যান্ত মেয়েটিকে নিমিষেই শেষ করে দিল।

তাই কোন মাজারে মাজারে অবস্থিতি ওলি আউলিয়া গউস কুতুব যেই থাকুক না কেন তিনি পার্থীব জগতের কারো জন্য কোন উপকার সাধন করতে পারেন না। এটাই মুসলিমদের মৌলিক বিশ্বাস। এর অন্যথা হলে তার বিশ্বাস থাকবে না। মুসলমান থেকে তার নাম কাটা যাবে।

দেশে শত শত মাজারে মুসলমান নামধারী হাজার হাজার ব্যক্তি দৈনিক তাদের ঈমান খোয়াতে সেসব মাজারে যাচ্ছে এবং কোটি কোটি টাকা দান খয়রাত মান্নত করছে।

দেশে এত মাদ্রাসা এত মসজিদ এত ইমাম এত আলেম এত মুফাসসের এত মুফতি অথচ কেউই এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না। দৈনিক হাজার লক্ষ মানুষ সরাসরি জাহান্নামের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

সম্প্রতি সিলেট মাজারকে কেন্দ্র করে যা ঘটেছে, তাতে স্পষ্টত যে মাজারগুলো একটি ব্যবসাকেন্দ্র ছাড়া আর কিছুই নয়।

তাই মাজারে কোন দান বাক্স রাখার কোন প্রয়োজন নেই। দান বাক্স খোলা হোক প্রতিটি হাসপাতালে অনাথ আশ্রমে মসজিদে।

দেশের মুসলিমদের ঈমান আকিদা রক্ষার্থে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশের সরকারের তরফ থেকে এ ধরনের মাজারগুলোকে বন্ধ করে দেওয়া হোক।

মোতাওয়াল্লি খাদেমসহ যারা এর অর্থ বিনা হিসাবে আত্মসাৎ করেছে তাদের থেকে অর্থ ফেরত গ্রহণ করা হোক।

ডিসি সারোয়ার আলমকে সিলেট থেকে প্রত্যাহারের জন্য মাজার সংশ্লিষ্ট একজন ১০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন মর্মে খবরটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

এই ব্যক্তিটা কে? তার অর্থের উৎস কোথায়? এ অর্থ গ্রহণকারীই কে। কার মাধ্যমে তিনি ডিসিকে প্রত্যাহারের ব্যাপারে সহযোগিতা করেছে সরকারকে এ বিষয়গুলো অবশ্যই তদন্ত করে বের করা আবশ্যক বলে দেশজাতি মনে করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *