
|| সাহিত্য ডেস্ক ||
বাংলা অনুবাদ সাহিত্যে সরাসরি ফারসি ভাষা থেকে সরাসরি কাজ করার নজির খুব বেশি নেই। সেই শূন্যতা কাটিয়ে বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুস সবুর খান (শাকির সবুর)। ২০২৬ সালের অমর একুশে বইমেলায় বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত তাঁর ‘সমকালীন ইরানের নির্বাচিত ছোটোগল্প’ গ্রন্থটি বর্তমানে পাঠকমহলে এক বিশেষ আকর গ্রন্থ হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে।
বিশাল ব্যাপ্তির এই গ্রন্থে সমকালীন ইরানের শীর্ষস্থানীয় ৩৩ জন প্রথিতযশা গল্পকারের ৩৩টি কালজয়ী গল্প স্থান পেয়েছে। বইটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, ইংরেজি বা অন্য কোনো তৃতীয় ভাষার সাহায্য ছাড়াই এটি সরাসরি মূল ফারসি থেকে বাংলায় অনূদিত হয়েছে। ফলে গল্পের মূল ভাব, সাংস্কৃতিক আমেজ ও ভাষাগত মাধুর্য এখানে অক্ষুণ্ণ রয়েছে। অনুবাদক শাকির সবুর কেবল ভাষান্তরই করেননি, বরং একজন গবেষকের নিপুণতায় বইটির দীর্ঘ ভূমিকায় ইরানি ছোটোগল্পের উৎপত্তি ও বিবর্তন নিয়ে অত্যন্ত পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলোচনা করেছেন।
সংকলনটিতে আধুনিক ফারসি ছোটোগল্পের জনক মোহাম্মদ আলী জামালযাদেহ থেকে শুরু করে ‘ব্লাইন্ড আউল’ খ্যাত সাদেক হেদায়াত, প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার মোহসেন মাখমালবাফ, শিশু-কিশোর সাহিত্যের প্রবাদপুরুষ হোসাঙ্গে মুরাদি কেরমানি এবং প্রথম উল্লেখযোগ্য নারী ঔপন্যাসিক সিমিন দানেশভারের মতো বিশ্বখ্যাত লেখকদের কাজ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পাঠকদের সুবিধার্থে প্রতিটি গল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট লেখকের ছবিসহ সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত যুক্ত করা হয়েছে, যা লেখককে আরও নিবিড়ভাবে চিনতে সহায়তা করে।
সাহিত্য সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শাকির সবুরের এই কালজয়ী প্রয়াস বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যকার সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ইরানি সমাজ, সংস্কৃতি, মনস্তত্ত্ব এবং বিপ্লব-পরবর্তী জীবনবোধ সম্পর্কে জানার জন্য এই গ্রন্থটি একটি চমৎকার বাতায়ন। বিশেষ করে একাডেমিক ও সৃজনশীল অনুবাদের ক্ষেত্রে এই নিভৃতচারী সাহিত্যসাধকের শ্রমসাধ্য কাজ বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ হিসেবে টিকে থাকবে।
