
|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||
প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি প্রোগ্রামিং ক্লাবের (পিইউপিসি) আয়োজনে ও সিএসই ডিপার্টমেন্টের সহায়তায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ‘বাইটবিট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট ’২৬’। রবিবার (১৭ মে) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যেন একদিনের জন্য প্রাণ ফিরে পেয়েছিল তরুণ কোডারদের উদ্দীপনা, স্বপ্ন আর প্রতিযোগিতার উত্তেজনায়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা এই প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল জেদ, মনোযোগ আর সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়ার এক গভীর আগ্রহ। পরে বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
প্রতিযোগিতার প্রতিটি মুহূর্ত ছিল উত্তেজনায় ভরপুর। সাতটি চ্যালেঞ্জিং প্রোগ্রামিং সমস্যা শিক্ষার্থীদের চিন্তা ও দক্ষতার গভীর পরীক্ষা নেয়। কেউ নিরব মনোযোগে কোড লিখছে, কেউ আবার বারবার ভুলের পরও সমাধানের নতুন পথ খুঁজছে—এই দৃশ্য পুরো ক্যাম্পাসে এক অনন্য আবেগ তৈরি করে। চ্যাম্পিয়ন দল সাতটির মধ্যে ছয়টি সমস্যা সফলভাবে সমাধান করে শীর্ষস্থান অর্জন করে, যা উপস্থিত সবাইকে অনুপ্রাণিত করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মান্নান চৌধুরী। তিনি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের এই অগ্রযাত্রাকে প্রশংসা করেন এবং এমন উদ্যোগকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন ও সিএসই বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. শহিদুল ইসলাম খান। পুরো আয়োজনটি অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তত্ত্বাবধান করেন ক্লাব মডারেটর অর্ক সিকদার।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্কুল অব বিজনেসের ডিন প্রফেসর আবুল কালাম, রেজিস্ট্রার সাকির হোসাইন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. জাহেদুর রহমান, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. জুলফিকার আলী, ইইই বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক সালেহিন ফেরদৌস, প্রক্টর মো. আনিসুর রহমান, স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক আফরোজা হেলেন এবং এডমিশন এন্ড পাবলিক রিলেশন্স ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি ডিরেক্টর এন্ড হেড জাহিদ হাসান।
পুরস্কার বিতরণী পর্বে বিজয়ীদের হাতে যখন মেডেল ও সনদ তুলে দেওয়া হলো, তখন হলের বাতাসটাও যেন একটু নীরব হয়ে গেল—নীরব, কিন্তু ভারী আনন্দে ভরা। কারও চোখে ছিল ঝলমলে হাসি, কারও চোখে এক অদ্ভুত শান্ত গর্ব—যেন অনেক কষ্ট, রাতজাগা কোড আর ব্যর্থ চেষ্টা শেষে একটা ছোট্ট স্বপ্ন সত্যি হয়েছে।
অতিথিরা বললেন, প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামিং শুধু কিছু সমস্যার সমাধান নয়; এটা আসলে নিজের ভেতরের মানুষটাকে একটু একটু করে গড়ে তোলার গল্প। এখানে বারবার ভুল হয়, আবার সেখান থেকেই জন্ম নেয় ধৈর্য। আর সেই ধৈর্যের ভেতরেই ধীরে ধীরে তৈরি হয় চিন্তা করার নতুন এক ভাষা।
তারা আরও বললেন, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি শুধু ডিগ্রি দেওয়ার জায়গা নয়—এটা এমন একটি জায়গা, যেখানে শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে নিজেদের ভেতরের সম্ভাবনাকে চিনতে শেখে। ছোট ছোট এমন আয়োজনই একদিন বড় হয়ে গড়ে তোলে আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ আর স্বপ্নবান এক প্রজন্ম যাদের হাতে সুরক্ষিত থাকবে আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব।
