বৃহস্পতিবার, জুন ২৫

চিলমারীতে ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-এর কর্মপরিকল্পনা ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত

|| বদরুদ্দোজা বুলু | চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে কৃষি খাতে ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’-এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে কর্মপরিকল্পনা ও পরিবীক্ষণ কাঠামো প্রণয়ন বিষয়ক এক পরামর্শ কর্মশালা (TCP BGD 4MP3) অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেলা সাড়ে নয়টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত উপজেলা অডিটোরিয়ামে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর (ফোকাল পয়েন্ট) ড. মোঃ আকরাম হোসেন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ন্যাশনাল পলিসি এক্সপার্ট মোঃ মাজহারুল আমিন, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রেজা অনিক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল বারী সরকার। এ ছাড়া সাংবাদিক ও বিএনপি নেতা মোঃ বদরুদ্দোজা বুলু, প্রশাসনিক কৃষি কর্মকর্তা সরোয়ারসহ মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কর্মশালায় অংশ নেন।

কর্মশালায় আলোচকবৃন্দ জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতার আলোকে ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ (BDP 2100)’ নামক একটি শতবর্ষী ও সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (GED) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত এই পরিকল্পনাটি ২০১৮ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (NEC) কর্তৃক অনুমোদিত হয়। পানিসম্পদ, ভূমি ও পরিবেশের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনই এর মূল লক্ষ্য। দেশের ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে চিহ্নিত ৬টি দুর্যোগপ্রবণ হটস্পটের মধ্যে চিলমারী উপজেলা অন্যতম। এই অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই মূলত এই কর্মশালার আয়োজন।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ, পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মতো ৬টি প্রধান স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে এই ডেল্টা প্ল্যান সাজানো হয়েছে। চিলমারীর মতো হটস্পটগুলোতে কৃষি সম্পদ রক্ষা, নদী ভাঙন রোধ, কৃষিতে পানির চাহিদা নিরূপণ ও সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এটি কাজ করবে।

কর্মশালার শেষাংশে উপস্থিত সুধী ও কর্মকর্তাদের নিয়ে ৩টি গ্রুপ গঠন করা হয়। উপজেলার কৃষকদের খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে গ্রুপগুলোর কাছ থেকে লিখিত পরামর্শ নেওয়া হয়। গ্রুপ আলোচনায় চরাঞ্চলে কৃষি তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্র স্থাপন, নদী শাসন, মাটির উর্বরতা অনুযায়ী উন্নত বীজ সরবরাহ, সার ও ডিজেল সংকট দূরীকরণ, পরিবহন ও বাজার বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে তোলার মতো ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ উঠে আসে।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চিলমারী উপজেলার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এ অঞ্চলের দারিদ্র্য বিমোচনে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *