Wednesday, August 12

গোলেরহাট ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

|| রফিকুল ইসলাম | নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||

‎কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার পূর্ব দুধকুমর নদীর পাড়ের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গোলেরহাট ফাজিল বিএ মাদ্রাসায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম এবং শিক্ষার মান ক্রমাগত অবনতির অভিযোগ উঠেছে। ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রি. তারিখে যোগদান করে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোকছেদ আলী। প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং মাদ্রাসা নীতিমালা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে দায়িত্ব না দেওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

‎১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত গোলেরহাট ফাজিল বিএ মাদ্রাসাটি এলাকায় একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসাটির প্রায় ৬২ বিঘা জমি ৬+৬=১২ বিঘা আয়তনের দুটি পুকুর, প্রায় ৮ বিঘা জায়গাজুড়ে চারতলা ভবন, একটি একতলা ভবন, চারটি টিনশেড ভবন, মসজিদ, গ্যারেজ ও শহীদ মিনার রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪২ বিঘা জমি ও পুকুর লিজ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ জন শিক্ষক-কর্মচারী এবং ৮০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

‎অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানে আরবি বিষয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও তাকে দায়িত্ব না দিয়ে মোঃ মোকছেদ আলীকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ২০২৩ সালের সংশোধিত প্রবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিধি মোতাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তা করা হয়নি।

‎এদিকে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি হওয়া বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালার আলোকে অধ্যক্ষ পদ শূন্য থাকলে জ্যেষ্ঠতম শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। তবে নতুন নীতিমালা জারির পরও আগের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষই দায়িত্বে বহাল থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সম্প্রতি মাদ্রাসার গাছ কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।

‎এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বক্তব্য জানা গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

‎অন্যদিকে, চলতি বছরের ফলাফল নিয়েও ব্যাপক হতাশা দেখা দিয়েছে। মাদ্রাসাটির ৪৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৩ জন পাস এবং ৩০ জন অকৃতকার্য হয়েছে বলে জানা গেছে। এমন ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ও পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা, শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা এবং নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম যথাযথভাবে হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

‎এদিকে মাদ্রাসায় নতুন করে কয়েকটি পদে নিয়োগ দেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। নিয়োগ কার্যক্রম শুরুর আগে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতি, জনবল কাঠামো এবং প্রচলিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

‎একই সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী পুনর্বিবেচনা করে যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

‎এ বিষয়ে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, প্রতিষ্ঠানটির বিপুল সম্পদ, প্রশাসনিক কার্যক্রম, শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতি, পাঠদান ব্যবস্থা, সাম্প্রতিক ফলাফল এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া—সবকিছু নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ৭৬ বছরের পুরোনো এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শুধু একটি মাদ্রাসা নয়, বরং এলাকার বহু মানুষের শিক্ষাজীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি ঐতিহ্য। তাই প্রশাসনিক জটিলতা ও শিক্ষার মানের অবনতি দূর করে প্রতিষ্ঠানটিকে আবারও সুনাম ও শিক্ষার মানের দিক থেকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনার দাবি তাদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *