
|| এস এম শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জেলা খুলনা আজ ১৪৫ বছরে পদার্পণ করেছে। ১৮৮২ সালের ২৫ এপ্রিল গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে শিল্প, বাণিজ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হয়েছে এ জনপদ।
নদ-নদী বেষ্টিত, রূপসা নদী ও ভৈরব নদ তীরবর্তী এই জেলা দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত। সুন্দরবন-সংলগ্ন এ অঞ্চল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অনন্য সমন্বয়।
খুলনা দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে সকাল ১০টায় নগরীর শিববাড়ি মোড় থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রা শেষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এবারের আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কয়েকজন গুণীজনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সম্মাননা পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন—
ভাষা সংগ্রামী বেগম মাজেদা আলী, সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ এনায়েত আলি, শিক্ষাবিদ প্রফেসর জাফর ইমাম, অধ্যক্ষ মোহাম্মাদ মাজহারুল হান্নান, প্রফেসর হারুন অর রশিদ, পাট ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান এবং প্রকৌশলী আজাদুল হক।
ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে খুলনা প্রথমে যশোর জেলার একটি মহকুমা ছিল। ১৮৪২ সালে মহকুমা হিসেবে যাত্রা শুরু করে এবং পরবর্তীতে ১৮৮২ সালে পূর্ণাঙ্গ জেলায় উন্নীত হয়। জেলার প্রথম ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ব্রিটিশ কর্মকর্তা ডব্লিউ এম ক্লে।
নামকরণ নিয়ে রয়েছে নানা মত। ইতিহাসবিদ ড. সুকুমার সেন-এর মতে ‘খুল্লনা’ শব্দ থেকেই ‘খুলনা’ নামের উৎপত্তি, যার অর্থ ক্ষুদ্র নৌকা ভাসে এমন স্থান। এছাড়া লোকমুখে প্রচলিত আছে খুল্লনেশ্বরী দেবী কিংবা আরব বণিকদের ‘আদ খোলনা’ শব্দ থেকেও নামটির উৎপত্তি হয়ে থাকতে পারে।
১৪৫ বছরের পথচলায় খুলনা আজ শিল্প, নদীবন্দর, শিক্ষা ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনপদে পরিণত হয়েছে। দিবসটি ঘিরে নগরজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
