রবিবার, মে ৩

কূটনীতি না সংঘাত, সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে: ইরান

|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||

চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে—হয় তারা কূটনীতির মাধ্যমে শান্তির পথ বেছে নেবে, না হয় সংঘাতের পথে হাঁটবে। ওয়াশিংটনকে যেকোনো একটি পথ বেছে নিতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেহরান।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের কাছে নয় দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। এর জবাবে ইরান স্থায়ীভাবে ‘যুদ্ধ বন্ধের’ লক্ষ্যে ১৪ দফার একটি পাল্টা প্রস্তাব পাঠায়। এই ১৪ দফার প্রস্তাব এবং এর ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে শনিবার কথা বলেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি।

উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন দুটি বিকল্প রয়েছে এবং বল এখন পুরোপুরি ওয়াশিংটনের কোর্টে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান যেকোনো পরিস্থিতির জন্যই পুরোপুরি প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রকে এখন বেছে নিতে হবে তারা আসলে কী চায়।

কাজেম দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এবং সংঘাতের অবসান ঘটানোর সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে তাদের সামনে দ্বিতীয় বিকল্প হচ্ছে যুদ্ধ করা। এই দুটির মধ্যে থেকে যেকোনো একটি আমেরিকাকে বেছে নিতে হবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। ওরা কূটনীতির পথ বেছে নেবে নাকি সংঘাত চালিয়ে যাবে, তা ওদেরই ঠিক করতে হবে। জাতীয় স্বার্থ এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ইরান দুটি পরিণতির জন্যই প্রস্তুত রয়েছে।”

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ট্রাম্পকে দেওয়া তেহরানের ১৪ দফার প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে এর বিনিময়ে ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে যুক্তরাষ্ট্র যে অবরোধ চালাচ্ছে, তা অবিলম্বে তুলে নেওয়ার শর্ত দিয়েছে ইরান।

এছাড়া, ইরানের যে পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে আমেরিকার তীব্র আপত্তি রয়েছে, তা নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে তেহরান। তবে প্রাথমিকভাবে এই প্রস্তাব ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার ইরানের এই পাল্টা প্রস্তাব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে শনিবার তিনি জানান, তিনি ইরানের প্রস্তাবের একটি ‘ধারণা’ পেয়েছেন, তবে এখনও লিখিত আকারে কোনো প্রস্তাব পাননি। লিখিত প্রস্তাব হাতে পেলে তার শব্দচয়ন অনুযায়ী তা বিবেচনা করা হবে। যদিও ট্রাম্প গভীর সংশয় প্রকাশ করে দাবি করেছেন, গ্রহণযোগ্য কোনো প্রস্তাব ইরান দিতে পারে বলে তিনি কল্পনাও করতে পারেন না।

একই সঙ্গে ইরানে ফের হামলার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেহরান যদি দুর্ব্যবহার করে, তবে ফের সংঘাতের সম্ভাবনা থেকেই যায়।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী ইরানে আক্রমণ চালায় এবং দীর্ঘদিন ধরে এই সংঘাত চলে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কোনো সামরিক অভিযান ছয় মাসের বেশি চালাতে পারেন না দেশটির প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির ফলে সময়সীমার আগেই ইরানের সাথে সংঘাত থেমেছে। ফলে তিনি চাইলে নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন, যা কেবল ‘মানবিক কারণে’ তিনি করছেন না। ট্রাম্পের আরও দাবি, ইরানের সাথে তিনি এমন কোনো সমঝোতায় যেতে রাজি নন, যার ফলে আগামী তিন বছরের মধ্যে আবারও হামলা চালানোর প্রয়োজন পড়ে।

সূত্র: আনন্দবাজার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *