বৃহস্পতিবার, মে ২১

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নগরবাসীর মাঝে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার বিতরণ

|| অপু দাস | জেলা প্রতিনিধি (রাজশাহী) ||

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো নগরবাসীর মাঝে বিনামূল্যে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে নগরীর দরগাপাড়া এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার তুলে দেন। পরে তিনি এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে নাগরিকদের মাঝে এসব সামগ্রী বিতরণ করেন এবং কোরবানি-পরবর্তী পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সচেতনতামূলক পরামর্শ দেন।

রাসিক সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির আওতায় রাজশাহী মহানগরীর প্রায় ৮২ হাজার হোল্ডিংয়ের প্রতিটি মুসলিম পরিবারকে তিনটি করে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ দেওয়া হচ্ছে। এসব ব্যাগে কোরবানির মাংস সংরক্ষণ করা যাবে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে। এছাড়া গরু বা মহিষ কোরবানিদাতাদের জন্য দুটি বড় পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও এক কেজি ব্লিচিং পাউডার এবং ছাগল বা ভেড়া কোরবানিদাতাদের জন্য একটি পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ৫০০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা হচ্ছে।

উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ঈদুল আজহার সময় পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কোরবানির পশুর বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ না হলে পরিবেশ দূষণ, দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই নাগরিকদের সচেতন করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিনের ব্যবহার কমাতে চাই। এজন্য পরিবেশবান্ধব ও পচনশীল ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সহজেই মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। ভবিষ্যতে রাজশাহীকে পলিথিনমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।”

কোরবানির বর্জ্য অপসারণ বিষয়ে রাসিক প্রশাসক জানান, ঈদের দিন থেকেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কাজ করবেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই কোরবানির সব বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হবে। নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে ঈদের পরদিনই নগরী পরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখা সম্ভব হবে।”
নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, কোরবানির পশুর রক্ত ও বর্জ্য যেন ড্রেন বা যত্রতত্র না ফেলা হয়। রাসিকের সরবরাহ করা ব্যাগে বর্জ্য ভরে নির্ধারিত স্থানে রাখার অনুরোধ জানান তিনি। পাশাপাশি দুর্গন্ধ ও জীবাণু প্রতিরোধে ব্লিচিং পাউডার ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

রাসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার বলেন, দেশের সিটি কর্পোরেশনগুলোর মধ্যে রাজশাহী প্রথমবারের মতো এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, এটি একটি সময়োপযোগী ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ, যা নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. নজরুল হুদা, সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন শিবলী, বোয়ালিয়া থানা (পশ্চিম) বিএনপির সভাপতি শামসুল হোসেন মিলু, মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিন রায়হান রবিন, সদস্য সচিব এমদাদুল হক লেমন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবিরসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *