মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৮

ইরানের নয়া সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির অভিষেক: নেপথ্যে বিপ্লবী গার্ডসের প্রভাব

|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||

দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মেজো ছেলে মোজতবা খামেনি। তবে তাঁর এই আকস্মিক উত্থানের পেছনে দেশটির শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনী ‘রেভল্যুশনারি গার্ডস’ বা বিপ্লবী গার্ডসের একক প্রভাব কাজ করেছে বলে দাবি করেছে রয়টার্স।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক হামলায় আলী খামেনির মৃত্যুর পর উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে কয়েক ঘণ্টা অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক প্রজ্ঞাবান ও ধর্মীয় নেতাদের একাংশের বিরোধিতা সত্ত্বেও বিপ্লবী গার্ডসের অনড় অবস্থানের মুখে শেষ পর্যন্ত মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা করে ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস)। বিশ্লেষকদের মতে, বাবার তুলনায় মোজতবাকে বেশি নমনীয় মনে করায় নিজেদের কট্টরপন্থী নীতি বাস্তবায়নে তাঁকে বেছে নিয়েছে বাহিনীটি। এর ফলে ভবিষ্যতে ইরান আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আরও আগ্রাসী এবং অভ্যন্তরীণভাবে কঠোর দমনমূলক অবস্থান নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দায়িত্ব পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি মোজতবা খামেনি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক উপস্থাপক তাঁকে ‘জানবাজ’ বা আহত যোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করায় গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, তাঁর বাবার ওপর চালানো মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তিনিও হয়তো আহত হয়েছেন। নিরাপত্তা ঝুঁকি ও শারীরিক অবস্থার কারণে তাঁর এই নীরবতা কি না, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরানের এই ক্ষমতার রদবদল এবং সেখানে সামরিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান আধিপত্য আগামী দিনে বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: রয়টার্স।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *