Saturday, July 18

ইরানের অর্থ ফেরত দিতেই হবে, না হলে ডলারের প্রতি আস্থা কমবে : ট্রাম্প

|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||

ইরানের জব্দকৃত অর্থ শেষ পর্যন্ত তাদের বুঝিয়ে দিতেই হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নয়, বরং ইরানের নিজস্ব সম্পদ। এটি ফেরত দেওয়া না হলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে মার্কিন ডলারের বিশ্বস্ততা ও আস্থা সংকটে পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলন শেষে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ জব্দ করে রেখেছে, যা একপর্যায়ে ফেরত দিতে হবে। তা না হলে বিশ্বে ডলারে বিনিয়োগের আগ্রহ কমে যেতে পারে।

একই সঙ্গে ইরান চুক্তির শর্ত মেনে চললে দেশটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতায় অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে এই অর্থ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র দেবে না উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, সব কিছু নির্ভর করছে ইরানের আচরণের ওপর। তারা সঠিক পথে চললে তবেই এই বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।

এর আগে, গত রবিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়। এতে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পথ তৈরি করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ইরানের ওপর থেকে জাতিসংঘ, আইএইএ এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, চলমান সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে বুধবার রাতে ফ্রান্সের ঐতিহাসিক ভার্সাই প্রাসাদে এক নৈশভোজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই সমঝোতা স্মারকে চূড়ান্ত স্বাক্ষর করেন। উভয় পক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, চুক্তিটি ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *