
|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘যারা পালিয়ে যায়, তারা আর ফিরে আসে না। সাহস থাকলে পালিয়ে না গিয়ে বিচারের মুখোমুখি হতে পারত। আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে এই উত্তরা থেকেই প্রতিরোধ শুরু হবে।’
গতকাল রবিবার (১৯ জুলাই) জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের স্মরণে উত্তরার মীর মুগ্ধ মঞ্চে আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই বিপ্লবে ফ্যাসিবাদী বাহিনীর প্রতিরোধে বৃহত্তর উত্তরাসহ ঢাকা উত্তরের জনতার বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্মরণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তর।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘উত্তরা গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান হটস্পট এবং প্রতিরোধের প্রধান দুর্গ ছিল। ছত্রিশ জুলাই উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী থেকে গণভবনমূখী ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হয়েছিল, যার মধ্য দিয়ে হাসিনা পালাতে বাধ্য হয়। আমরা উত্তরার এই অবদানকে কখনো ভুলে যাব না।’
এনসিপির আহ্বায়ক তাঁর অতীতের স্মৃতি চারণ করে বলেন, ‘দুই বছর আগের এদিন আমাকে এবং বহু মানুষকে গুম করেছিল হাসিনার বাহিনী। দুই বছর পরে আমাদের একটাই চাওয়া—স্বৈরাচার এবং তাদের দোসরদের বিচার। স্বৈরাচারের বিচার না হলে দেশে আবারও স্বৈরাচার তৈরি হবে।’
জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিএনপি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘বিএনপি এখন একত্রিশ দফা ভুলে গেছে। তারা নোট অব ডিসেন্টের জুলাই সনদের কথা বলছে। এই প্রতারণা বাদ দিয়ে গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। সংবিধান সংশোধনের আগে বিএনপির নিজের সংশোধন হতে হবে।’
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি বক্তব্যের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন—প্রতিবেশী বদলানো যায় না। কিন্তু যে প্রতিবেশী আমার পরিবারের সদস্যদের খুন করে, সে প্রতিবেশীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা যায় না।’ একই সাথে চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত উত্তরা গড়তে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন—শহিদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম এমপি, জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল, জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারসহ শহিদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাই আন্দোলনের আহত যোদ্ধারা।
