শুক্রবার, মার্চ ১৩

১৮ মাসেও নির্বাচন নয়: অন্তর্বর্তী কমিটির নিয়ন্ত্রণে খুলনা প্রেসক্লাব, সাংবাদিকদের ক্ষোভ

|| এস এম শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি, খুলনা ||

খুলনার সাংবাদিকদের অন্যতম প্রধান সংগঠন খুলনা প্রেসক্লাব দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস ধরে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে খুলনার পেশাদার সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জুলাই অভ্যুত্থানের পর পূর্ববর্তী কমিটির মেয়াদ শেষ হলে সাময়িকভাবে তিন মাসের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির দায়িত্ব ছিল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও নির্বাচন আয়োজন করা হয়নি। উল্টো একাধিক দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে বর্তমানে প্রায় দেড় বছর ধরে একই কমিটি প্রেসক্লাবের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যেখানে নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ এক বছর, সেখানে তিন মাসের জন্য গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক সদস্য।

খুলনা প্রেসক্লাবের একজন সিনিয়র সাংবাদিক ও ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ক্লাবের গঠনতন্ত্রের ৯ ধারার (খ) উপধারা অনুযায়ী আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ সর্বোচ্চ ৪৫ দিন। এই সময়ের মধ্যেই একটি নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা হয়নি। ফলে ৪৫ দিনের পর ওই কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তার মতে, গঠনতন্ত্রে উল্লেখিত বিধান উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা সংগঠনের নিয়মের পরিপন্থী।

এদিকে প্রেসক্লাবের একাধিক সদস্য অভিযোগ করেছেন, বর্তমান কমিটি কয়েকজন পেশাদার সাংবাদিকের সদস্যপদ বাতিল ও অনেকের সদস্যপদ স্থগিত করেছে, যা তারা আইনবহির্ভূত বলে দাবি করছেন। নতুন সদস্য গ্রহণের কার্যক্রমও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সাংবাদিকদের একটি অংশের দাবি, প্রেসক্লাবের মতো একটি পেশাজীবী সংগঠনে দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়া সংগঠনের গণতান্ত্রিক চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তাদের মতে, দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচিত কমিটির হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া উচিত।

তবে এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *