
|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাকির হুসাইনের শিক্ষাজীবন নিয়ে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার ও সম্মানহানির চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপাচার্যের ১২ বছর বয়সে দাখিল পাস এবং একই বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকা থেকে কামিল পাসের বিষয়টিকে ‘অসংগতি’ হিসেবে প্রচার করা হলেও, তৎকালীন মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার সঠিক ইতিহাস ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম না জানার কারণেই এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও ওয়াকিফহাল মহল।
নথিপত্র ও ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষাকে এসএসসি (SSC) সমমানের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল ১৯৮৫ সালে। এর আগে অর্থাৎ ১৯৭৫ সালে যখন ড. জাকির হুসাইন দাখিল পাস করেন, তখন এটি কোনোভাবেই এসএসসির সমমান ছিল না। তখনকার দিনে মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ পর্যায়ক্রমিক প্রক্রিয়ায় অনেক কম বয়সেই শিক্ষার্থীরা দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিতে পারত এবং তৎকালীন সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক প্রধানরা নিবন্ধনের সময় আনুমানিক বয়স লিখে দিতেন, যা সেই যুগের সাধারণ নিয়ম ছিল। যেহেতু তখন দাখিল সনদের সাথে এসএসসির সরাসরি বয়সভিত্তিক বাধ্যবাধকতা যুক্ত ছিল না, তাই ১২ বছর বয়সে দাখিল পাস করা আইনত বা নিয়মকানুন অনুযায়ী সম্পূর্ণ বৈধ হিসেবে পরিগণিত।
অন্যদিকে, একই বছর (১৯৮৫) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি বিভাগে অনার্স এবং ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল পাসের বিষযে যে গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে, সেটির নেপথ্যে ছিল আশির দশকের তীব্র সেশনজট। উপাচার্য নিজেই স্পষ্ট করেছেন, ১৯৮৫ শিক্ষাবর্ষের অনার্সের পরীক্ষা সেশনজটের কারণে অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৮ সালে এবং ফলাফল প্রকাশিত হয় ১৯৮৯ সালে। সেশনজটের কারণে কাগজে-কলমে পাসের সন ১৯৮৫ হলেও প্রকৃতপক্ষে একই সময়ে দুটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাসে অংশ নেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তা ছাড়া, তিনি চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রিকেই একক যোগ্যতা হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং কামিল ডিগ্রিটি কেবল সততার সাথে নিজের জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ করেছেন, কোনো কিছু গোপন করেননি।
দৈনিক শিক্ষাডটকম-এর সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান খানসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, তৎকালীন মাদ্রাসা শিক্ষার ঐতিহাসিক বিবর্তন, দাখিলের সমমান প্রদানের সাল এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সেশনজটের বাস্তবতাকে আড়াল করে একজন সম্মানিত উপাচার্যের বিরুদ্ধে ‘ভজকট’ বা অসংগতির অভিযোগ তোলা নিতান্তই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ড. মো. জাকির হুসাইনের সততা ও অর্জিত ডিগ্রির সব তথ্যই স্বচ্ছ, যা যাচাই-বাছাই করেই তাকে দেশের একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে আসীন করা হয়েছে।
