রবিবার, জুন ৭

সুদানের বাজারে ড্রোন হামলায় নিহত ১১

|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||

সুদানের মধ্যাঞ্চলের একটি ব্যস্ত বাজারে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত ১১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। দেশটির উত্তর কর্দোফান রাজ্যের আবু জাইমা শহরের একটি বাজারে শনিবার (৬ জুন) এই হামলা চালানো হয়। স্থানীয় একটি মানবাধিকার সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহকারী মানবাধিকার সংস্থা ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’ জানায়, যে বাজারে হামলা চালানো হয়েছে সেই এলাকাটি বর্তমানে আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আহতদের অনেকের অবস্থাই গুরুতর, যার ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

সংস্থাটি আরও জানায়, এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে আশপাশের কয়েকটি গ্রাম এবং একটি বেসামরিক গাড়ি লক্ষ্য করে একই ধরনের ড্রোন হামলা চালানো হয়। বেসামরিক মানুষ, গ্রাম ও যানবাহনকে লক্ষ্য করে চালানো এই ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইমার্জেন্সি লইয়ার্স একে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। তারা অবিলম্বে এসব হামলা বন্ধ এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দুই প্রত্যক্ষদর্শী জানান, একই দিনে উত্তর কর্দোফানের আংশিক অবরুদ্ধ রাজধানী আল উবাইদের একটি জ্বালানি স্টেশনেও ড্রোন হামলা হয়েছে। সেখানে চারজন আহত বেসামরিক নাগরিককে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ইমার্জেন্সি লইয়ার্স এবং স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে পশ্চিম ও উত্তর কর্দোফানে পৃথক দুটি ড্রোন হামলায় প্রায় ৭০ জন নিহত হয়েছেন। চলমান এই সংঘাতের অন্যতম প্রধান অস্ত্রে পরিণত হয়েছে ড্রোন। জাতিসংঘের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ড্রোন হামলায় অন্তত ৮৮০ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।

গত বছরের অক্টোবরে পশ্চিম দারফুরের আল ফাশির দখলের পর থেকে তেল ও উর্বর কৃষিজমিতে সমৃদ্ধ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কর্দোফান এবং ব্লু নাইল অঞ্চলে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এসব এলাকা থেকে ইতোমধ্যে তিন লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন, যা বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *