
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
ইসরায়েলি বিমান বাহিনী সিরিয়া ও লেবানন সীমান্তের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিং পয়েন্টে ভয়াবহ বোমা হামলা চালিয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) গভীর রাতে চালানো এই হামলায় দক্ষিণ লেবাননে অন্তত দুই জন নিহত এবং ১৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই হামলাকে সরাসরি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ‘পদ্ধতিগত আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, হিজবুল্লাহর অস্ত্র চোরাচালান রোধে তারা সিরিয়া-লেবানন সীমান্তের হারমেল অঞ্চলের চারটি ক্রসিং লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে লেবানন সরকার একে দেশটির সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ইসরায়েল শুরু থেকেই তা বারবার লঙ্ঘন করে আসছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের কানারিত শহরে চালানো হামলায় ১৯ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া জাহারানি ও বাজুরিয়েহ এলাকায় দুটি যানবাহনকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলায় আরও দুই জন প্রাণ হারান। ইসরায়েলি বাহিনী হামলার আগে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় উচ্ছেদের সতর্কতা জারি করলেও জনবহুল এলাকাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, “ইসরায়েল আবারও আন্তর্জাতিক আইন তোয়াক্কা না করে বসতবাড়িতে হামলা চালিয়েছে। এই আগ্রাসী আচরণ প্রমাণ করে যে তারা কোনো শান্তিকামী চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়।” লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইসরায়েলের এই ধারাবাহিক হামলা হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এএফপির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ৩৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
