|| প্রফেসর ড. আ ব ম সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকী ||
বর্তমান সরকারের অর্ধশত মন্ত্রিপরিষদের কারো ব্যাপারে কারো জন্য কোন মন্তব্য থাকলে থাকতে পারে একমাত্র শিক্ষামন্ত্রী ছাড়া।
বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ইতিপূর্বে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শিক্ষার সংস্কারে বিশেষত: নকল প্রতিরোধে যে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, তা অবিস্মরণীয় হয়ে রয়েছে এদেশের সকলের হৃদয়ে। সেটার উপর ভিত্তি করেই বর্তমান সরকার তাকে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ।
কিন্তু ৯০% মুসলিম দেশে শিক্ষা ক্ষেত্রে বরাবর যে বিষয়গুলো অবহেলিত থাকছে, সে বিষয়ে এবার কি হবে? সেটাই দেখার বিষয়।
আওয়ামী সরকার যখন ক্ষমতায় আসে, তখন তারা শিক্ষাক্ষেত্রে শুধু সংস্কার নয় তাদের দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী ডারউইনবাদ, ধর্ম নিরপেক্ষবাদ বাস্তবায়ন করে এদেশের মুসলিম শিক্ষা সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে কখনো তারা পিছুপা ছিল না।
আর মাদ্রাসা শিক্ষা ও ইসলামী শিক্ষার বারোটা বাজাতে তো ছিল সিদ্ধ হস্ত। তারা যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের নামে মুসলিমদের কৃষ্টি কালচারের বারোটা বাজিয়েছে।
গত দেড় যুগে বাংলাদেশের কোন কলেজে ইসলামের ইতিহাস ও ইসলামী শিক্ষা কোন নতুন করে মঞ্জুরিত দেওয়াই হয়নি। যারা অনার্স মাস্টার্স এর জন্য আবেদন করেছে সে কলেজগুলোতেও অনার্স বা মাস্টার্স খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
মানবিক বাণিজ্য ও বিজ্ঞান সকল শাখার সকলেই যেখানে ইসলামী শিক্ষা ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে নিতে পারত, কিন্তু গত দেড় যুগে বিষয়টিকে শুধু মানবিক শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য এমন কিছু বিষয়ের সাথে ঐচ্ছিক রাখা হয়, যাতে ওই সাবজেক্টগুলো বাদ দিয়ে কেউ ইসলামী শিক্ষা গ্রহণ না করে।
দেশের কোন একটি দাখিল আলিম ফাজিল কামিল মাদ্রাসা সরকারীকরণ করা হয়নি।
হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করলেও একটি ইবতেদায়ী মাদ্রাসাও জাতীয়করণ করা হয়নি।
প্রাথমিক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে বলতে গেলে ধর্ম শিক্ষা প্রায় ঝেটিয়ে বিদায় দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী সকলের পছন্দের একজন ব্যক্তিত্ব। এ সরকারের সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য বিদূরীত হবে, তারা তাদের অধিকার নিশ্চিত পাবে, এটা আশা করা মোটেই অমূলক নয়।
তাই দেশবাসীর পক্ষ থেকে আমার জোর দাবি
১. দেশের সকল ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণ করা হোক।
২. সকল উপজেলায় একটি করে দাখিল আলিম ফাজিল কামিল বয়েজ ও গার্লস মাদ্রাসা সরকারীকরণ করা হোক।
৩. ইসলামী শিক্ষা নেই এমন কলেজগুলোতে ইসলামী শিক্ষা বিভাগ খোলা বাধ্যতামূলক করা হোক।
৪. সকল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ইসলামী শিক্ষা বিষয়ে অনার্স এবং মাস্টার্স খোলা হোক।
৫. সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ করা হোক।
৬. সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মসজিদ নির্মাণ করা হোক এবং মুসলিম সন্তানদেরকে প্র্যাকটিসিং মুসলিম হিসেবে গড়ে তোলার ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
৭. বয়েজ স্কুল কলেজ হতে সহ শিক্ষা উঠিয়ে দেওয়া হোক।
৮. মেয়েদের সারা শরীর আবৃত থাকে এ ধরনের ইউনিফর্ম স্কুল কলেজ মাদ্রাসায় বাধ্যতামূলক করা হোক।
৯. শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করণ করা হোক।
১০. সর্বোপরি, নকল প্রথা বিলোপে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
জুলাইয়ের আন্দোলন ছিল বৈষম্যের অবসান। এর উপর ভিত্তি করেই বর্তমান সরকারের উত্থান। সে সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের বৈষম্য এবং বিমাতাসুলভ আচরণ এখনো যদি অব্যাহত থাকে তাহলে জামায়াতে ইসলামীসহ সকল ইসলামী দলের সংসদ সদস্যদের সংসদে থাকা কতটুকু যৌক্তিক হবে সেটা তারাই ভালো জানেন।
লেখক: অধ্যাপক ও সাবেক ডিন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
