রবিবার, জানুয়ারি ১১

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কর্মী গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ, ‘ফ্যাসিবাদী আচরণ’ বলে অভিযোগ

|| জেলা প্রতিনিধি (রাজশাহী) ||

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন রাজশাহী মহানগরীর তিন কর্মীকে পরিকল্পিতভাবে গ্রেপ্তারের অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি। শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে সংগঠনের রাজশাহী মহানগর সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সামাদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক অভিযোগ করেন, রাজপাড়া থানা পুলিশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কর্মী চাঁদ সওদাগর, মুরাদ ও বিদ্যুৎকে তাদের নিজ নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র উদ্ধারের সাজানো ঘটনা উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

নেতৃদ্বয় বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি বিশেষ মহলের ইন্ধনে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও নিন্দনীয় ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। সাহেব বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাই কি তাদের অপরাধ—এ প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। নির্দোষ শ্রমিক কর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় জড়ানোর অপচেষ্টা জনগণ গ্রহণ করবে না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে চাঁদ সওদাগরকে একাধিক রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় তাকে রিমান্ডে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। এমনকি কারাবন্দি অবস্থায় তার অবুঝ কন্যাসন্তান মৃত্যুবরণ করলেও তাকে জানাজায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন নেতারা।

সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, চাঁদ সওদাগরের বিরুদ্ধে কোনো থানায় চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সুনির্দিষ্ট মামলা নেই। এখন পর্যন্ত প্রশাসন কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ বা এভিডেন্স উপস্থাপন করতে পারেনি। যেসব মামলার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো মূলত ৫ আগস্টের আগের রাজনৈতিক মামলা এবং জুলাই আন্দোলনের সময়কার বলে দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, একজন ‘জুলাই যোদ্ধা’র বিরুদ্ধে এ ধরনের দমনমূলক ও ফ্যাসিবাদী আচরণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ভূমিকা পালনের পথ পরিহার করার দাবি জানানো হয়। গ্রেপ্তারকৃত শ্রমিক কর্মীদের নিঃশর্ত ও সম্মানজনক মুক্তির দাবিও জানায় সংগঠনটি।
এছাড়া প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে নিরপরাধ শ্রমিক কর্মীদের মুক্তির পথ সুগম করা হোক।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মালেকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *