
|| সেলিম মোল্লা | নিজস্ব প্রতিনিধি (মানিকগঞ্জ) ||
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উথলি ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বৈধ সনদ ছাড়াই টেকনোলজিস্ট দিয়ে প্যাথলজি ও এক্সরে পরীক্ষা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলায় রোগীদের সঠিক রিপোর্ট ও চিকিৎসাসেবা পাওয়া নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির ল্যাবে রক্ত, প্রস্রাবসহ বিভিন্ন ধরনের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করার পাশাপাশি এক্সরে কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। এসব কাজে নাছির উদ্দিন ও কাইয়ুম মোল্লা নামে দুজন যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাদের প্রয়োজনীয় সনদ ও পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নাছির উদ্দিন প্যাথলজিস্টের প্যাডে স্বাক্ষর ব্যবহার করে রোগীদের রিপোর্ট সরবরাহ করছেন। ভুল বা ত্রুটিপূর্ণ রিপোর্টের কারণে রোগীরা বিভ্রান্ত হয়ে ভুল চিকিৎসার ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারির অভাবে প্রতিষ্ঠানটিতে এ ধরনের অনিয়ম চলছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। এমনকি প্রতিবেদন প্রকাশ না করার জন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক কাইয়ুম মোল্লা সাংবাদিকদের নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠে।
অভিযোগের বিষয়ে নাছির উদ্দিন বলেন, “আমি নিদিশা ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজিতে তিন বছরের কোর্স করেছি। সেখান থেকে আমাকে যদি ভুয়া সনদ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে আমার কিছু করার নেই। প্রতিষ্ঠানটি ভুয়া তা আমার জানা ছিল না।”
অন্যদিকে এক্সরে পরিচালনার বিষয়ে কাইয়ুম মোল্লা বলেন, “সনদ দেওয়ার সময় আমাকে মৌখিকভাবে বলা হয়েছিল আমি এক্সরে করতে পারব। তাই আমি এক্সরে পরিচালনা করি।”
এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসমত জাহান ভূঁইয়া জানান, উথলি ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টেকনোলজিস্ট ভুয়া প্রমাণিত হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির লাইসেন্স ও টেকনোলজিস্টদের সনদপত্র তদন্তের দাবি জানিয়ে অবিলম্বে দক্ষ ও বৈধ টেকনোলজিস্ট নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
