
|| ধর্ম ডেস্ক ||
শাবান মাস হলো পবিত্র রমজানের আগমনী বার্তা। মুমিন মুসলমানের জন্য এই মাসটি অনেকটা ‘প্রস্তুতি ক্যাম্প’-এর মতো। রাসূলুল্লাহ (সা.) এই মাসটিকে রমজানের প্রস্তুতির জন্য বিশেষভাবে কাজে লাগাতেন।
শাবান মাসের গুরুত্ব ও রাসূল (সা.)-এর আমল
শাবান মাস ইবাদতের জন্য অত্যন্ত বরকতময়। হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজানের পর শাবান মাসেই সবচেয়ে বেশি নফল রোজা রাখতেন। হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে রমজান ব্যতীত অন্য কোনো মাসে পূর্ণ এক মাস রোজা রাখতে দেখিনি এবং শাবান মাসের চেয়ে বেশি রোজা রাখতে দেখিনি।” (বুখারি ও মুসলিম)। মূলত রমজানের দীর্ঘ সিয়াম সাধনার জন্য শরীর ও মনকে তৈরি করতেই তিনি এই মাসে অধিক রোজা রাখতেন।
কুরআন তিলাওয়াতের অভ্যাস
পূর্বসূরি নেককার আলেমরা শাবান মাসকে ‘কুরআন তিলাওয়াতের মাস’ বলতেন। রমজানে খতম বা বেশি তিলাওয়াতের পরিকল্পনা থাকলে শাবান মাস থেকেই তার মহড়া শুরু করা উচিত। এতে রমজানে দীর্ঘ সময় কুরআন পাঠ সহজ হয় এবং অন্তরে প্রশান্তি অনুভূত হয়।
তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে মন পরিষ্কার
রমজান হলো রহমত ও মাগফিরাতের মাস। অপবিত্র হৃদয়ে ইবাদতের স্বাদ পাওয়া কঠিন। তাই শাবান মাসেই বিগত দিনের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করে অন্তরকে স্বচ্ছ করে নেওয়া জরুরি। হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্রুতা পরিহার করে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করা এই মাসের অন্যতম শিক্ষা।
কাজা রোজা পূর্ণ করা
যাঁদের আগের বছরের রমজানের রোজা কোনো কারণে কাজা রয়ে গেছে, শাবান মাসই হলো তা আদায়ের শেষ সুযোগ। বিশেষ করে মা-বোনদের জন্য এই মাসে কাজা রোজাগুলো সেরে নেওয়া আবশ্যক, যাতে পবিত্র রমজানে সম্পূর্ণ নতুন উদ্যমে ইবাদত শুরু করা যায়।
ইবাদতের পরিকল্পনা ও দুয়া
রমজানে আপনি কতটুকু কুরআন পড়বেন, কত রাকাত নফল নামাজ পড়বেন বা কতটুকু দান-সদকা করবেন, তার একটি মানসিক বা লিখিত পরিকল্পনা এই মাসেই তৈরি করুন। পাশাপাশি বরকতের জন্য আল্লাহর কাছে দুয়া করা। রাসূল (সা.) রজব ও শাবান মাস এলেই দুয়া করতেন— “হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসকে বরকতময় করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।”
উপসংহার
শাবান মাস হলো বীজ বপনের সময় আর রমজান হলো ফসল সংগ্রহের সময়। তাই শাবান মাসে যারা অলসতা ত্যাগ করে ইবাদতের মহড়া দেবে, তারাই মূলত রমজানের পূর্ণ বরকত লাভে সফল হবে। আল্লাহ আমাদের শাবান মাসে সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে রমজানের হক আদায় করার তাওফিক দান করুন।
