
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
দক্ষিণ লেবাননের টায়ার শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট আল-মানার টিভি স্টেশনের উপস্থাপক আলী নূর আল-দিন নিহত হয়েছেন। সোমবারের (২৬ জানুয়ারি) এই হামলার পর হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আল-মানার টিভির ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সাবেক এই উপস্থাপককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি টায়ারের শহরতলী আল-হাওশ এলাকায় প্রধান প্রচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। খবর: আল জাজিরার।
এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে লেবাননের তথ্যমন্ত্রী পল মরকোস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছেন, ইসরায়েলি হামলায় সাংবাদিক বা সংবাদকর্মী কেউই রেহাই পাচ্ছেন না। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই ধরনের লঙ্ঘন বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে এবং লেবাননে গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টের (সিপিজে) তথ্যমতে, ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত লেবাননে অন্তত ৬ জন সাংবাদিক ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন, যদিও অন্যান্য পর্যবেক্ষক সংস্থার মতে এই সংখ্যা ১০ জন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টায়ার শহরের হামলায় একজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি নাবাতিহ এলাকায় পৃথক হামলায় আরও দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। পরবর্তীতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আল-দিনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তাকে হিজবুল্লাহর সদস্য হিসেবে দাবি করেছে।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র-মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলের নিয়মিত হামলা অব্যাহত রয়েছে। এএফপি-র তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে এ পর্যন্ত ৩৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন এবং তেহরানের প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির মুখে হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম এক টেলিভিশন ভাষণে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ইরানের ওপর যেকোনো হামলা হিজবুল্লাহর ওপর হামলা হিসেবেই গণ্য হবে এবং এটি পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়ে দেবে। একইসঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইকে নিয়ে যেকোনো ধরনের হুমকির বিরুদ্ধেও তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তেহরানও যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের ওপর কোনো হামলা হলে এমন জবাব দেওয়া হবে যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে প্রভাবিত করবে।
