
|| কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ||
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে সংঘটিত একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি আলমগীর হোসেন আনন্দকে (৩২) কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার গোরকমন্ডল এলাকার একটি দুর্গম চর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৩। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার আনন্দ আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের তালুক দুলালী বারোঘড়ি গ্রামের মৃত ইমান আলীর ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ২ জুন তালুক দুলালী বারোঘড়ি গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে উজ্জল মিয়া (২৬)কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আনন্দের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জন অংশ নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই প্রধান আসামি আনন্দ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘদিন তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হওয়ায় আদিতমারী থানা পুলিশ র্যাব-১৩-এর সহযোগিতা চায়। পরে প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানতে পারে, আনন্দ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার গোড়কমন্ডলের দুর্গম চরে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। এরপর বৃহস্পতিবার ভোরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত উজ্জল মিয়ার মা রহিমা বেগম বলেন, “আমার চোখের সামনেই আমার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর দুর্বৃত্তরা আমাদের বাড়িঘরও ভাঙচুর করেছে। প্রধান আসামি এতদিন পলাতক ছিল। তার গ্রেপ্তারে আমি স্বস্তি পেয়েছি। আমি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
আদিতমারী থানার ওসি নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, “মামলার প্রধান আসামি দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছিল না। সোর্স নিয়োগ ও প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”
