
|| ডা. আনোয়ার সাদাত ||
লাইলাতুল কদর এমন একটি মহিমান্বিত রাত, যার মর্যাদা হাজার মাসের চেয়েও বেশি। অর্থাৎ এ রাতের ইবাদতের মর্যাদা তিরাশি বছর চার মাসের চেয়েও বেশি সময়ের ইবাদতের সমান। আল্লাহ–তাআলা বলেন, “লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।” (সুরা কদর, আয়াত: ৩)
আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ইমান ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে নামাজে দাঁড়াবে, তার পূর্বের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯০১; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭৬০)।
এই রাতের ইবাদতের মর্যাদা এত বেশি যে সম্মানিত ফেরেশতাগণও এ রাতে আল্লাহর অনুমতিতে পৃথিবীতে অবতরণ করেন। হাদিসে এসেছে, “লাইলাতুল কদরের রাতে ফেরেশতারা এত সংখ্যায় অবতরণ করে যে তাদের সংখ্যা পাথরকুচির চেয়েও বেশি।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস:ররররঈীঈরীরৌঅস ১০৭৩৫)
রাসুল (সা.) বলেছেন, “তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান কর।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০১৭)
কিছু বর্ণনায় ২৭তম রাত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলা হয়েছে। তবে আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী এই রাত প্রতি বছর একই তারিখে নাও হতে পারে। এটি ২১, ২৩, ২৫, ২৭ বা ২৯ তারিখেও হতে পারে।
এ রাতের মর্যাদায় আল্লাহ তাআলা একটি সুরা নাজিল করেছেন। আর এ রাতেই আল্লাহ তাআলা মানুষের মুক্তির সনদ আল-কুরআনুল কারিম নাজিল করেছেন। এ রাত ও কুরআন নাজিল প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন—”নিশ্চয়ই আমি তা (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। আর কদরের রাত সম্বন্ধে তুমি কী জান? শবে কদর হলো- এক হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। শান্তি আর শান্তি, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত (নাজিল হতে) থাকে।’ (সুরা আল-কদর)
লাইলাতুলকদরের ফজিলত লাভ করার জন্য রমজানের শেষ দশকে আমরা ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে অতিবাহিত করার জোর চেষ্টা চালাবো। আল্লাহ পাক আমাদের তৌফিক দান করুন। আমীন।
লেখক: ইসলামিক স্কলার, সাংবাদিক ও চিকিৎসক (খুলনা)।
