
|| অপু দাস | জেলা প্রতিনিধি (রাজশাহী) ||
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) পরিচয় ব্যবহার করে সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. মারুফ হোসেন (২৯)। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোপালপুর বাইপাস সড়ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানানো হয়, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জঙ্গিবাদ দমন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সাইবার প্রতারণা রোধে নিয়মিতভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে বাহিনীটি।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, ভুক্তভোগী মো. ইসমাইল চৌধুরী রাসেল (৩৭), পিতা—আমিনুল হক চৌধুরী, সাং—বলাইখা, থানা—রূপগঞ্জ, জেলা—নারায়ণগঞ্জ। তিনি একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত। তার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান খানের সঙ্গে গত ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে একটি অজ্ঞাতনামা নম্বর থেকে ফোনযোগে যোগাযোগ করা হয়।
ফোনকারী নিজেকে র্যাবের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জানায়, শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এ মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য জরুরি ভিত্তিতে অর্থ সহায়তা প্রয়োজন বলে জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নাম ব্যবহার করায় বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য মনে হলে চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান খান প্রতারকের দেওয়া ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে ৫ লাখ টাকা পাঠান।
অর্থ পাঠানোর পর উক্ত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এতে প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হলে ভুক্তভোগীরা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
পরবর্তীতে মো. ইসমাইল চৌধুরী রাসেল বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দায়ের করা হয় ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে। মামলার নম্বর ০৫ এবং এতে দণ্ডবিধির ১৭০, ৪২০, ৪০৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলাটি রুজুর পর র্যাব বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে র্যাব-৫, সদর কোম্পানি, রাজশাহী এবং র্যাব-১১, সদর কোম্পানি, নারায়ণগঞ্জের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি যৌথ অপারেশন দল গঠন করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে যৌথ বাহিনী রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানাধীন গোপালপুর বাইপাস রোড এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে সাইবার প্রতারণা চক্রের মূলহোতা মো. মারুফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার পিতা রফিকুল ইসলাম এবং বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষ্ণবাটি, বোগদামারী এলাকায়।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি র্যাবের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে। সে পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে অর্থ আদায়ের কৌশল ব্যবহার করত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানায় জিডি মূলে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে র্যাবের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
