
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ১৪৫৩তম দিনে এসে পাল্টাপাল্টি হামলা ও ভূখণ্ড দখলের লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। দক্ষিণ রাশিয়ায় মস্কো নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া উপদ্বীপের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেলের টার্মিনালে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। অন্যদিকে, রণক্ষেত্রে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার দাবি করে গত দুই সপ্তাহে পূর্ব ইউক্রেনের ডজনখানেক গ্রাম দখলের ঘোষণা দিয়েছে রুশ সামরিক বাহিনী। খবর: আল জাজিরার।
ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, গত রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের ভলনা গ্রামে অবস্থিত ‘তামাননেফতেগাজ’ তেল টার্মিনালে এই হামলা চালানো হয়। রুশ কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর তামানে ড্রোন হামলার ফলে বেশ কয়েকটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে যায়, যা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন শতাধিক ফায়ার সার্ভিস কর্মী।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, কেবল গত এক সপ্তাহেই রাশিয়া ইউক্রেন লক্ষ্য করে প্রায় ১,৩০০ ড্রোন, ১,২০০ গাইডেড বোমা এবং কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এসব হামলায় কিয়েভের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েক হাজার মানুষ প্রচণ্ড শীতের মধ্যে তাপহীন অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
এদিকে, রাশিয়ার সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্র পরিদর্শনকালে দাবি করেছেন যে, তীব্র শীত উপেক্ষা করেই রুশ বাহিনী ফেব্রুয়ারি মাসে পূর্ব ইউক্রেনের ১২টি গ্রাম দখল করেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ-পূর্ব জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের তসভিৎকোভ গ্রামটিও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। বর্তমানে এই অঞ্চলের প্রায় ৭৫ শতাংশ রাশিয়ার দখলে থাকলেও দীর্ঘ সময় পর এবারই প্রথম বড় ধরনের কোনো অগ্রগতির দাবি করল মস্কো।
যুদ্ধের এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই ওডেসা ও দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রেললাইন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে উভয় পক্ষই এখন যুদ্ধের ময়দানে একে অপরকে ঘায়েল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে।
