
|| ডা. আনোয়ার সাদাত ||
রাসুলে করিম (স.) দীর্ঘ সংগ্রাম ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ইসলামি রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্হা। যা ছিল ইতিহাসের স্বর্ণযুগ। তিনি তার নেতৃত্ব দিয়েছেন। খুলাফায়ে রাশেদার আমলেও মুসলমানদের নেতৃত্বের ধারা অব্যহত থাকে।
মূলত মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্ব গড়ে ওঠে কুরআন ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে। সে নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য ছিল, মুসলমানরা যেমন রাষ্ট্র শাসন করবে, তেমনি দ্বীনি ইলমেরও শিক্ষা দিবে।
খুলাফায়ে রাশেদার পর এই নীতিকে তেমন আর অনুসরণ করা হয়নি। ফলে মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্ব দেওয়ার মানদণ্ড আর বজায় থাকলো না। ফলে মুসলমানরা ধীরে ধীরে নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব হারাতে থাকলো।
মুসলমানদের জন্য যে নেতৃত্ব হবে, তা হবে আল্লাহর কুরআন ও রাসুলের সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু মুসলমানরা যখন কুরআন ও সুন্নাহ থেকে দূরে সরে গেল, তখনই তারা নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব হারানো শুরু করলো।
বর্তমানে অধিকাংশ মুসলিম দেশে যারা রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে রয়েছেন, দৃশ্যত তারা মুসলিম, কিন্তু তারা ইসলাম ও শরীয়া থেকে দূরে। ফলে ইসলামের বাস্তব রূপ এসকল দেশে অনুপস্থিত।
আর যারা ইসলাম তথা কুরআন হাদিসের চর্চা করেন, ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত, ধর্মের অনুসরণের চেষ্টা করেন, তারা সমাজ ও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব থেকে দূরে আছেন বা বঞ্চিত। ধর্মীয় আলেমগণ মানুষের মধ্যে দ্বীনের শিক্ষা প্রচারে যথেষ্ট অবদান রাখেন এতে কোন সন্দেহ নেই।
মুসলিম দেশে মুসলিম শাসকরা শাসন করলেও বিভিন্ন উপনিবেশিক আমলের চিন্তা বিশ্বাস মতবাদ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করেন।
মুসলিম দেশের শিক্ষা ব্যবস্হাও ইংরেজ বা বিভিন্ন উপনিবেশ আমলের শিক্ষা ব্যবস্হা চালু থাকার কারণে মুসলমানদের মধ্যে ইসলামী চিন্তা চেতনাও গড়ে উঠছে না। ফলে যারা দ্বীনি এলম অর্জন করেছেন তারা নেতৃত্বের আসন থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন।
আর যারা সমাজ ও রাষ্ট্রে দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তারাও বিভিন্ন দল, ধারা ও মতবাদে বিভক্ত। এমনকি ক্ষেত্র বিশেষ একে অপরের বিরোধী। এসকল বিভিন্ন কারণে সমাজ ও রাষ্ট্রে দ্বীন প্রতিষ্ঠা যেমন সম্ভব হচ্ছে না, তেমনি দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত মুসলমানরা নেতৃত্বের আসন লাভ করতে পারছে না।
লেখক: ইসলামিক স্কলার, সাংবাদিক ও চিকিৎসক (খুলনা)।
