মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১০

ভোটের ছুটিতে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে ঘরমুখো মানুষের

|| সেলিম মোল্লা | নিজস্ব প্রতিনিধি (মানিকগঞ্জ) ||

আর একদিন পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অনেক কাঙ্খিত ত্রয়োাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘদিন মানুষ তাদের মত প্রকাশের যে অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল আজ তা পুরুণ হতে চলেছে। তাই দীর্ঘদিন পর আজ অনেক কাঙ্খিত ভোট দেয়ার জন্য বাড়তি ভাড়া দিয়ে হলেও ঈদের আনন্দের মতো ছুটছে মানুষ বাড়ির দিকে। ফলে আরিচা ও পাটুরিয়া লঞ্চ ও ফেরি ঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভীর পরিলক্ষিত হয়েছে।

দেখে মনে হবে এ যেন, ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরছে মানুষ। এ সুযোগে এক শ্রেণীর অসাধু পরিবহণ শ্রমিকরা যাত্রীদের নিকট থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে কিছুটা হলেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদেরকে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারী ) থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলগুলোতে ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। ছুটি পেয়ে বাড়ির পথে সাভার-আশুলিয়ায় কর্মরত হাজারো মানুষ আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট হয়ে তারা বাড়ি ফিরছেন। যে কারণে হঠাৎ করে মঙ্গলবার সকালের দিকে এ দু’টি ঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ পড়েছে। যাত্রীদের এ চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। যে কারণে ঘাটে এসে যাত্রীদেরকে পারাপারের জন্য স্পিডবোটের টিকিট কাটার জন্য লম্বা লাইনে দাড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

ঘরমুখো যাত্রীরা জানান,সোমবার পোশাক কারখানার শ্রমিকদের শেষ কর্মদিবস ছিল। নির্বাচন উপলক্ষে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষেরা একযোগে গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেওয়ায় বাস মালিকরা কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে।

পাবনার বেড়াগামী যাত্রী নজরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন সে ভোট দিতে পারিনি। এবার ভোট দেয়ার একটা সুযোগ এসেছে। তাই আরিচা ঘাট হয়ে বাড়ি যাচ্ছেন তিনি। নদী পার হওয়ার জন্য লাইনে দাড়িয়ে থাকাতে একটু কষ্ট হলেও এ কষ্টের মধ্যে আনন্দ আছে। এ যেন ঈদের আনন্দ এমনটাই লাগছে তার কাছে।

আলমগীর নামের এক যাত্রী জানান, প্রথমবারের মতো ভোট দিতে নবীগনগর থেকে গ্রামের বাড়ি ইশ্বরদি যাচ্ছেন। কিন্তু ১২০ টাকার ভাড়া ৪০০ টাকা করে নিয়েছে। এর প্রতিবাদ করলেই নানা কথা শোনায় পরিবহন শ্রমিকরা। ন্যায্য ভাড়া কার্যকর এবং এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তিনি।

আবুল কালাম নামের এক যাত্রী জানান, সে ভোট দেয়ার জন্য ঢাকার গাবতলী থেকে সেলফি পরিবহণে আরিচা ঘাট হয়ে গ্রামের বাড়ি পাবনা যাচ্ছেন। গাবতলী থেকে সেলফি পরিববহণে ২শ’ টাকার ভাড়া নিয়েছে ৫শ’ টাকা।

ভোট দেয়ার জন্য গ্রামের বাড়ি বেড়া যাব। আগে সাভার থেকে আরিচার ভাড়া ১২০টাকা ছিল। আজকে সেই ভাড়া সেলফি পরিবহনে ৪০০টাকা করে নিয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন আবুল কালাম নামের এক পোশাক শ্রমিক।

একই দাবি পাবনার যাত্রী আব্দুল আলীমের। অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে আমার মতো অনেক শ্রমিক বাড়ি ফিরতে পারছেন না, আমরা এই সমস্যার সমাধান চাই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ছুটি পেয়েছি, এখনও বেতন পাইনি। বিকাশ থেকেও টাকা বের করা যাচ্ছে না। তার উপর ১২০ টাকার ভাড়া আজকে ৪০০ টাকা করে নিচ্ছে।

এ বিষয়ে বাস শ্রমিক ফারুক হোসেন জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কথা অস্বীকার করে বলেন, যাত্রীর চাপ বেশী হওয়াতে এক পাশ থেকে খালি যেতে হয়। যে কারণে হয়তো একটু বেশি ভাড়া নিতে পারে।

এ বিষয়ে শিবালয় থানার ওসি মো. মনির হোসেন বলেন, বাড়তি ভাড়া নেয়ার বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনা গেলেও লিখিতভাবে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আমাদের এখানে বাড়তি ভাড়া না নেয়ার জন্য বলে দেয়া হয়েছে। ঢাকার গাবতলীতে বলা দরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *