
|| ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের খামার আন্ধারীঝাড় গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে রাতের আঁধারে পাওয়ার টিলার দিয়ে রোপণ করা আমন ধানের ক্ষেত নষ্ট, একটি পরিবারকে বাড়িতে অবরুদ্ধ করা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দুই পরিবার পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ ভূরুঙ্গামারী থানায় দায়ের করেছে। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, খামার আন্ধারীঝাড় গ্রামের মৃত জাবেদ আলী মণ্ডলের ছেলে আব্দুল মজিদ ও তার ওয়ারিশদের কাছ থেকে একই গ্রামের আব্দুল আজিজ ও বাদশাহ মিয়া ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি মৌজার ১১৮১ নম্বর খতিয়ানের ৩৩৭২ নম্বর দাগভুক্ত ৪০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। এরপর থেকে আব্দুল আজিজের ছেলে লিটন মিয়া ২০ শতাংশ এবং বাদশাহ মিয়া ২০ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, জমিটি বিক্রির পরও একই গ্রামের মো. জাহিদুল ইসলাম, আব্দুল আজিজ (৬০), মতিয়ার রহমান (৪০)সহ কয়েকজন বিভিন্ন সময় জমিটির মালিকানা দাবি করে দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ গত ৫ মে ২০২৬ তারিখে আন্ধারীঝাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাবেদ মণ্ডল, জয়মনিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ সরকারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি সমঝোতা দলিলে স্বাক্ষর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১২ জুলাই লিটন মিয়া ওই জমিতে রোপা আমনের চারা রোপণ করেন। পরদিন ১৩ জুলাই গভীর রাতে অভিযুক্তরা পাওয়ার টিলার নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে হালচাষ ও মই চালিয়ে সদ্য রোপণ করা ধানের চারা সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেয়। এতে তার প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
লিটন মিয়ার ভাষ্য, সকালে বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জমিতে গেলে অভিযুক্তরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং সেখানে গেলে হত্যা ও গুরুতর জখমের হুমকি দেয়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল বারেক, করিম, হাবিল উদ্দিন ও রুবেল মিয়াসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, জমির বিক্রেতা আব্দুল মজিদ অভিযোগ করেন, ধানক্ষেত নষ্ট করার আগে রাতে তার বাড়ির প্রধান ফটকে বাইরে থেকে শিকল লাগিয়ে দেওয়া হয়, যাতে তিনি ও পরিবারের সদস্যরা বের হয়ে কোনো প্রতিরোধ করতে না পারেন। সকালে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করলে গেট খুলতে না পেরে প্রতিবেশীদের ডাক দেন। পরে স্থানীয়রা এসে তালা খুলে তাদের বের করেন।
আব্দুল মজিদের অভিযোগ, জমি বিক্রির পর থেকেই তার দুই ভাই ও এক ভাতিজা তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত খুন, গুম ও বসতবাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার হুমকি দিয়ে আসছে। সর্বশেষ অবরুদ্ধ করার ঘটনায় তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্থানীয়দের মতে, জমি দখলকে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ফসল নষ্টের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না হলে এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষসহ বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
ভুক্তভোগী লিটন মিয়া ও আব্দুল মজিদ মিয়া অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিম উদ্দিন বলেন, “এ ঘটনায় দুটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
