
|| নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে মুসলমানদের ওপর বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ও অমানবিক নির্যাতন কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার (১৫ মে) বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ইসলামী ঐক্য আন্দোলন মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এই হুঁশিয়ারি দেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে মুসলমানদের ওপর চলমান বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ও অমানবিক নির্যাতন অনেকাংশে ইসরাইলকেও হার মানিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, ইসরাইলকে গুরু মেনেই ভারত এই মুসলিম নিধনযজ্ঞ চালাচ্ছে। ভারত সরকার দেশটির মুসলমানদের জান-মাল ও ইজ্জত-আব্রুর নিরাপত্তা দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।
ভারত সরকারকে ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, ভারত আমাদের; আমরা মুসলিমরা ৮০০ বছর এই ভারতকে শাসন করেছি। ভারত সরকার মুসলমানদের ওপর এই অত্যাচার-নির্যাতন বন্ধ না করলে তাদের চরম খেসারত দিতে হবে। মুসলিম বিশ্ব ফুঁসে উঠলে ভারতের শেষ রক্ষা হবে না। প্রয়োজনে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ হলে ভারতের অস্তিত্ব বিপন্ন হতে বাধ্য। একই সঙ্গে ভারতের মুসলমানদেরও নিজেদের জানমাল ও ইজ্জত-আব্রু রক্ষার্থে এখনই রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তারা।
নেতৃবৃন্দ মন্তব্য করেন, আল্লাহ চাহে তো তখন জঙ্গিবাদী হিন্দুদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।
সমাবেশ থেকে বাংলাদেশ থেকে ভারত সরকারের সকল ধরনের অমানুষিক ও হঠকারিতাপূর্ণ মুসলিম নিধনযজ্ঞ অবিলম্বে বন্ধ করার জোর আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলাদেশের মুসলমানদের পক্ষ থেকে ভারতের মুসলমানদের পক্ষে কথা বলুন এবং সেখানকার মুসলমানদের ওপর যে নির্যাতন-নিপীড়ন চলছে, তা বন্ধ করার জন্য কার্যকর কূটনৈতিক আহ্বান জানান।
ঢাকা মহানগরীর আমীর জনাব মোস্তফা বশীরুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল জনাব মোস্তফা তারেকুল হাসান। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা ফারুক আহমাদ। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোঃ আবু বকর সিদ্দিক, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর মাওলানা আনোয়ার হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব এফএম আলী হায়দার এবং শ্রমবিষয়ক সম্পাদক জনাব আজমল হোসেনসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও মহানগরী নেতৃবৃন্দ।
