
|| আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে এই পর্যায়ে পৌঁছায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি এবং সরবরাহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তাই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। বিশেষ করে ইরান সম্ভাব্য মার্কিন স্থল আগ্রাসন প্রতিহতের ঘোষণা দেওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করায় বৈশ্বিক তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ব্যাহত হচ্ছে। কয়েক দশকের মধ্যে এটি অন্যতম বড় জ্বালানি সংকট হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যার প্রভাবে এশিয়ার শেয়ার বাজারেও বড় ধরনের ধস নেমেছে। জাপানের নিক্কেই এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচকে ৪ শতাংশের বেশি পতন বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উত্তেজনা আরও ছড়িয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারিতে। তিনি আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ না ছাড়লে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন। যদিও তিনি একই সঙ্গে যুদ্ধের অবসানে ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন, তবে তেহরান ক্ষতিপূরণ ও প্রণালির ওপর নিজেদের অধিকার স্বীকৃতির শর্ত দিয়ে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে, যা অনেক দেশকে জরুরি জ্বালানি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করছে।
তবে এই উত্তেজনার মাঝেও পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার মতো কিছু মিত্র দেশের জাহাজকে সীমিত আকারে প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দিচ্ছে ইরান।
সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ডের তথ্যমতে, গত কয়েক দিনে অনিরাময়িত জাহাজের চলাচল সামান্য বাড়লেও যুদ্ধের আগের তুলনায় তা অত্যন্ত নগণ্য। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক চলাচল দ্রুত শুরু না হলে তেলের দাম অচিরেই ১২০ ডলার অতিক্রম করতে পারে।
