
|| নিজস্ব প্রতিনিধি ||
রাজধানীর বাসাবো নন্দীপাড়ার ৬ নম্বর রোডে অবস্থিত মানিকদিয়া কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত প্রিয় ব্যক্তিত্ব মরহুম হাফেজ মাওলানা হযরত আলীর কবর জিয়ারত করেছেন তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও আদর্শিক সহযোদ্ধারা। গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক আবেগঘন পরিবেশে এই জিয়ারত ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
গত ১৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে হাফেজ আলী সবাইকে কাঁদিয়ে রফিকে আ’লার দরবারে চলে যান। দাফনের পর প্রিয় ভাইকে ছাড়া এটিই ছিল তাঁদের প্রথম ঈদ। সেই স্মৃতিকাতরতা থেকেই গতকাল বিকেলে তাঁর কবরের পাশে ছুটে যান রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা।
কবর জিয়ারতের এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও ইসলামী ঐক্য আন্দোনের সম্মানিত সেক্রেটারি জেনারেল জনাব মোস্তফা তারেকুল হাসান। তিনি স্মৃতিকাতর হয়ে গভীর শোক প্রকাশ করে জিয়ারতে শরিক হন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ ভূঞা, মাওলানা আনোয়ার হোসেন, মাওলানা কবি ওবায়দুল্লাহ এবং হাফেজ মাওলানা শহিদুল ইসলামসহ মরহুমের ঘনিষ্ঠজন ও সহযোদ্ধারা।
জিয়ারত শেষে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁরা বলেন, হযরত আলী ভাই ছিলেন অত্যন্ত প্রাণচঞ্চল, মিশুক ও অমায়িক ব্যবহারের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। হাজারো প্রতিকূলতা ও সমস্যার মাঝেও তাঁর মুখে সর্বদা হাসি লেগে থাকত। নিজের ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি অন্যদেরও হাসিখুশি রাখতেন। আন্দোলন, সংগ্রাম, মিছিল ও মিটিংয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পথ চলার স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে সহকর্মীরা জানান, আলী ভাই ছিলেন তাঁদের হাসি-আনন্দ আর সুখ-দুঃখের অকৃত্রিম সাথী। তাঁকে হারিয়ে সবাই গভীরভাবে শোকাহত এবং এখনো তাঁর অভাব প্রতিনিয়ত অনুভব করছেন।
কবর জিয়ারত শেষে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করা হয় যেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদের প্রিয় হযরত আলী ভাইকে জান্নাতে উঁচু মাকাম দান করেন, তাঁর জীবনের সকল নেক আমল কবুল করেন এবং সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দেন। একইসাথে মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের সুস্থতা এবং ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক কামনা করা হয়। নিছক গভীর ভালোবাসা ও মায়ার টানে আয়োজিত এই কবর জিয়ারতে এক আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়।
