
|| কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ||
পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে এক স্থানীয় ব্যক্তিকে কামড় দিয়ে পালিয়েছিলেন শামীম মিয়া (৩২)। পালানোর সময় পায়ে আঘাত পাওয়ার পর পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। বেনামে চিকিৎসা নেওয়ার সময় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তার সহযোগী মেহেদী হাসান (১৯)কেও গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলার কুড়ারপাড় এলাকার এলটিবি ইটভাটা সংলগ্ন নির্জন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৭৬ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার শামীম মিয়া উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙ্গা এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে। অপর গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান একই এলাকার আজিম উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ জানায়, কুড়ারপাড় এলাকায় মাদক ক্রয়-বিক্রয় ও সেবনের প্রস্তুতির খবর পেয়ে স্থানীয় সচেতন জনতা ও মাদক নির্মূল কমিটির সদস্যদের সহায়তায় অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শামীম মিয়া পালানোর চেষ্টা করেন। তাকে আটকাতে গেলে তিনি এক স্থানীয় ব্যক্তিকে কামড় দিয়ে আহত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় পালানোর পথে তার পায়ে আঘাত লাগে।
পরে চিকিৎসা নিতে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় পুলিশ সেখানে নজরদারি শুরু করে। একপর্যায়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেনামে চিকিৎসা নেওয়ার সময় তাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন ও এসআই আল আমিনের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী টহলের সময় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, গ্রেপ্তার দুজন পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারা পরিবহন শ্রমিকের ছদ্মবেশে ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। সোনাহাট স্থলবন্দরকেন্দ্রিক ট্রাক শ্রমিকদের মধ্যে ইয়াবা সেবন ও ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হচ্ছে। মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
