
|| রফিকুল ইসলাম | নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ||
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারের বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণের সরকারি নিয়ম থাকলেও তা তোয়াক্কা না করে চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রনি তার বাড়ি সংলগ্ন নিজস্ব অফিসে বসে চাল বিতরণ করেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও ওজনে কম দেওয়া এবং সচ্ছল ব্যক্তিদের মাঝে চাল বিতরণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ৪ হাজার ৪৫২ জন হতদরিদ্রের জন্য জনপ্রতি ১০ কেজি করে মোট ৪৪ মেট্রিক টন ৫২০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। তবে গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের ১ হাজার ৪০১ জন সুবিধাভোগীর মাঝে চেয়ারম্যান তার পৈতৃক বাড়ি সংলগ্ন বন্ধুবাজারের ব্যক্তিগত অফিস থেকে এই চাল বিতরণ করেন। এসময় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, তারা জনপ্রতি মাত্র ৮ থেকে ৯ কেজি করে চাল পেয়েছেন। বাকি চাল কৌশলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
নাগেশ্বরী খাদ্যগুদাম সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ২টায় ডিও প্রদানের মাধ্যমে ১৪ মেট্রিক টন ১০ কেজি চাল উত্তোলন করা হয়, যা ওই দিনই চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া মঙ্গলবার আরও দুই দফায় প্রায় ২১ মেট্রিক টন ৯৬০ কেজি চাল উত্তোলন করেন ইউপি সচিব আব্দুর রশিদ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদ বাদ দিয়ে দুর্গম এলাকার দোহাই দিয়ে চেয়ারম্যান নিজের প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত জায়গায় চাল বিতরণ করেছেন যাতে অনিয়ম করতে সুবিধা হয়।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য বাবুল হোসেনসহ একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, চেয়ারম্যান একক সিদ্ধান্তে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজস্ব অফিসে চাল বিতরণ করছেন। ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রনি দাবি করেন, নিয়ম মেনেই চাল বিতরণ করা হয়েছে। যদিও খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলনের সঠিক পরিমাণ ও গরমিল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোফাখখারুল ইসলাম জানান, ভিজিএফ চাল বিতরণে কোনো প্রকার অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথও জানিয়েছেন, অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন জাহান লুনার সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
