
|| লিটন হোসেন | নিজস্ব প্রতিনিধি (নওগাঁ ও জয়পুরহাট) ||
নওগাঁর মান্দা উপজেলার ঐতিহাসিক ও অলৌকিক ঠাকুরমান্দা রঘুনাথ জিউ মন্দির প্রাঙ্গণে চৈত্র মাসের শুক্লা নবমী তিথি উপলক্ষে শুরু হয়েছে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ১০ দিনব্যাপী রামনবমী মেলা ও শ্রী শ্রী রামচন্দ্রের জন্মোৎসব। গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোর থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবকে ঘিরে মন্দিরসংলগ্ন পুকুরে ‘এক ডুবেই চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া যায়’—এমন এক অলৌকিক বিশ্বাসে হাজারো পুণ্যার্থীর ঢল নেমেছে।

প্রতি বছরের মতো এবারও লাখো ভক্তের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো মন্দির এলাকা, যেখানে পূজা, আরতি, প্রার্থনা ও মানতের মাধ্যমে দিনব্যাপী ধর্মীয় কার্যক্রম চলছে।
জনশ্রুতি রয়েছে যে, বহু বছর আগে এক অন্ধ ভক্ত শ্রী রামচন্দ্রের কৃপা লাভের আশায় এই পুকুরে স্নান করে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছিলেন, আর সেই লোককথা থেকেই পুকুরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মন্দির প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশে প্রতিবন্ধী শিশুদের শুইয়ে রেখে বাবা-মায়েরা সন্তানের সুস্থতার আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন এবং অনেকে মানত হিসেবে টাকা-পয়সা ছিটিয়ে দিচ্ছেন।
উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার মনোজ কুমার এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু মন্দির পরিদর্শন ও ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
হাইকমিশনার মনোজ কুমার এসময় মানুষের গভীর ভক্তি ও বিশ্বাসের প্রশংসা করেন এবং নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন বলে জানান।
সংসদ সদস্য ডা. টিপু বলেন, এই মন্দিরটি কেবল ধর্মীয় স্থান নয়, এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল প্রতীক।
ঢাকা ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্তরা জানান, এই মন্দিরে মানত করলে তা পূরণ হয় এবং সন্তান লাভ হয়—এমন গভীর বিশ্বাস থেকেই তারা প্রতিবছর এখানে ছুটে আসেন।
মন্দির কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনোজিৎ কুমার সরকার জানান, এটি উত্তরবঙ্গের এক বিশাল অসাম্প্রদায়িক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর সমন্বয়ে কয়েক স্তরের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মান্দা থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল গনি, যাতে পুণ্যার্থীরা নির্বিঘ্নে তাদের ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করতে পারেন।
