
|| শেখ শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||
খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর এলাকায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও তার কিশোর ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাবলা রোডের ডে-নাইট কলেজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন নিশাত কমপ্লেক্সের শুভ জুয়েলার্সের মালিক সুব্রত অধিকারী (প্রায় ৫০) ও তার ছেলে রিজু অধিকারী (১৫), যে খুলনা পাবলিক কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাতের দিকে দোকান বন্ধ করে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে স্কুটি/মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন সুব্রত অধিকারী। পথে কলেজ সংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন যুবক তাদের গতিরোধ করে। এক পর্যায়ে “টাকা পড়ে গেছে” বলে থামতে বাধ্য করা হয়। গাড়ি থামানো মাত্রই দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে।
হামলায় সুব্রত অধিকারীর পিঠ ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে। তার ছেলে রিজুর হাতের কব্জি ও শিরায় মারাত্মক জখম হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ছেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। জানা গেছে, তার হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলাকারীরা কোনো অর্থ বা মালামাল নিয়ে যায়নি। দুইটি মোটরসাইকেলে ৫-৬ জন ছিল এবং তাদের মুখে মাস্ক ছিল। পূর্ব বিরোধের জেরে ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে।
ঘটনার পর থেকে নিশাত কমপ্লেক্স ও দৌলতপুর এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় জুয়েলারি ব্যবসায়ী নেতারা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, নগরীতে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
