Tuesday, August 18

দৌলতপুরে নদীভাঙনে হুমকির মুখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিখ্যাত আমতুলী হাট

|| সেলিম মোল্লা | নিজস্ব প্রতিনিধি (মানিকগঞ্জ) ||

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তীব্র আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। ভাঙনের মুখে পড়েছে উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী আমতুলী হাট, দুটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বৈন্যা গ্রামের ২০০ পরিবার ও তিন শতাধিক দোকানপাটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। যমুনা নদীর শাখা নদীর প্রলয়ংকরী ভাঙনে একে একে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি, ফলে খোলা আকাশের নিচে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ভাঙনকবলিত মানুষ।

গত কয়েকদিনের আকস্মিক ভাঙনে বৈন্যা গ্রামের অন্তত ১০-১২টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে তীব্র হুমকির মুখে রয়েছে দৌলতপুরের অন্যতম প্রধান গরুর হাট ‘আমতুলী হাট’, আমতুলী ফেদু সেক উচ্চ বিদ্যালয় ও আমতুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

ভিটেমাটি হারিয়ে জিয়নপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছায়েদুর রহমান আকুতি জানিয়ে বলেন, “চোখের সামনে বাপ-দাদার ভিটেমাটি হারিয়ে আমরা দিশেহারা। আর মাত্র ৫০০ ফুট এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হলে ২০০টি পরিবার এবং শতবর্ষী দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজার রক্ষা পাবে। আমরা মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবিরের কাছে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের জোর দাবি জানাচ্ছি।”

ভাঙন পরিস্থিতির বিষয়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি ও সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হবি এবং সংরক্ষিত ইউপি সদস্য সুফিয়া বেগম জানান, নদী থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটি আর ১০-১৫ দিনের মধ্যে নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রত পদক্ষেপ না নিলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাজার ও আরও বহু বসতবাড়ি বিলীন হয়ে যাবে।

জিয়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আতোয়ার রহমান বলেন, “ভয়াবহ নদীভাঙনের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক প্রতিরোধ ও পরবর্তীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে।”

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিলভিয়া স্নিগ্ধা জানান, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। লিখিত আবেদন পেলেই ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *