মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৭

দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারের জরুরি নির্দেশনা

|| নিজস্ব প্রতিবেদক | আলোকিত দৈনিক ||

দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোতে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে গত ২৫ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত একটি আদেশ দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে।

নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত পণ্য বিক্রয়, ব্যবহার ও প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, সরকারের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ‘যৌথ ঘোষণা’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দপ্তরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘তামাকমুক্ত’ ঘোষণা করতে হবে এবং সেখানে দৃশ্যমান সাইনেজ বা সতর্কবার্তা প্রদর্শন করতে হবে। একইসঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুসরণ করে তামাক শিল্পের যেকোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা বা প্রচারণাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই নির্দেশনায় খাবারের ক্ষেত্রেও আমূল পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অস্বাস্থ্যকর খাদ্য এবং উচ্চ চিনিযুক্ত পানীয়ের বিপণন সীমিত করে তার পরিবর্তে স্বাস্থ্যসম্মত ‘হেলদি ক্যান্টিন’ স্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ক্যান্টিনে সরবরাহকৃত খাবারে স্বল্প লবণ, চিনি এবং ট্রান্স-ফ্যাটমুক্ত খাবার নিশ্চিত করতে হবে। এমনকি সরকারি সভাগুলোতেও এখন থেকে ক্যাটারিংয়ে তাজা ফল, বাদাম ও স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে খেলার মাঠ নেই, সেখানে ইনডোর কার্যক্রম বা শিশুদের সাঁতার শেখানোর উদ্যোগ গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসের অবকাঠামো অবশ্যই নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী বান্ধব হতে হবে। কর্মীদের দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পরিবর্তে প্রতি ঘণ্টায় ডেস্কেই হালকা ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহারে উৎসাহিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

মাউশির পরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, এই উদ্যোগের ফলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি যেমন কমবে, তেমনি একটি সুস্থ-সবল জাতি গঠনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *