
|| রাসেল মিয়া | তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি ||
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের দক্ষিণ নগর গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের সাড়ে তিনশ’ ফলনজাত পেঁপে গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। একইসঙ্গে বাগানের ৩০টি কলার ছরি লুটে নেয়ারও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, গত ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় দক্ষিণ নগর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. আ. হেকিমের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আশরাফুল হেকিম দিদারের ফিসারী ও পেঁপে বাগানের ভেতর দিয়ে গবাদিপশু চলাচলে বাধা দেন তিনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিবেশী তাজুল ইসলাম (৫৫) ও তার ছেলেরা দিদারের ওপর হামলা চালায়। পরবর্তীতে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে দিদারের বাড়িতে দ্বিতীয় দফা হামলা করলে তিনি গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই হামলার ঘটনায় দিদারের স্ত্রী তানিয়া মীর বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ ৬ নং আদালতে ৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা (নং-১৩৩, তারিখ: ০৭/০৫/২০২৬) দায়ের করেন। আসামিরা হলেন—তাজুল ইসলাম, পিয়াস, শামীম, নূরুল ইসলাম, মাসুদ, রাফি ও কামাল। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে তাড়াইল থানা পুলিশ প্রধান আসামি তাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করে কোর্টে প্রেরণ করে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ১ নম্বর আসামি গ্রেফতার হওয়ার জেরে ওইদিন দিবাগত গভীর রাতে অন্য আসামিরা দিদারের ফিসারীর পাড়ে থাকা সাড়ে তিনশ’ ফলন্ত পেঁপে গাছ কেটে বিনষ্ট করে এবং কলার ছরিগুলো নিয়ে যায়। এ বিষয়ে স্থানীয়রা ভয়ে মুখ খুলতে রাজি হচ্ছেন না।
ক্ষতিগ্রস্ত দিদারের পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আ: হেকিম আক্ষেপ করে বলেন, “আমার ছেলেরা সবাই চাকরিজীবী, কেউ বাড়িতে থাকে না। অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য দিদার বেকারত্ব দূর করতে ৬২ কাঠা জমিতে ফিসারী ও পেঁপে চাষ করেছিল। আসামিরা গবাদিপশু দিয়ে বাগান নষ্ট করে এবং মাছ চুরি করে। এখন আমার ছেলের ওপর হামলা চালিয়েছে, গাছগুলোও শেষ করে দিল। বাড়িতে এখন শুধু বৃদ্ধ আর শিশুরা আছে, আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
অভিযোগের বিষয়ে ৩ নম্বর আসামি শামীম বলেন, “তাদের সাথে আমাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ আছে। তবে পেঁপে গাছ কে বা কারা কেটেছে তা আমরা জানি না। আপনারা তদন্ত করে দেখুন।” পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
