
|| এস এম শাহরিয়ার | জেলা প্রতিনিধি (খুলনা) ||
খুলনায় ডাক বিভাগের ‘মেইল ক্যারিয়ার’ পদে নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে প্রশ্নপত্র ঘিরে বিতর্কের জেরে দৌলতপুর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে দৌলতপুর মুহসিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে।
প্রত্যক্ষদর্শী পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ওইদিন সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পরীক্ষার সময় হল নম্বর ৫০৮-এ দায়িত্বে ছিলেন কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক মো. হাফিজুর রহমান। অভিযোগ ওঠে, পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ আগে তিনি হল সুপারের কাছ থেকে একটি প্রশ্নপত্র নিয়ে কক্ষের বাইরে যান। তাকে পরে সিঁড়ির কাছে প্রশ্নপত্র হাতে দেখা যায় বলেও কয়েকজন পরীক্ষার্থী দাবি করেন।
এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরীক্ষা শেষে তারা কেন্দ্র সচিব ও দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন এবং ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের দাবি, বিষয়টি স্বচ্ছভাবে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিজওয়ানুর রশিদ অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তাকে নিয়ে পিএমজি কার্যালয়ে বৈঠক হয়। সংশ্লিষ্ট কক্ষের ইনভিজিলেটরসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য যাচাই করা হয়।
পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন বলেন, তাৎক্ষণিক শুনানিতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী অভিযোগটি আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে প্রতীয়মান হয়নি। তবে ঘটনাটি নথিভুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নওরোজি কবিরের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। তবে কলেজ সূত্রে জানানো হয়েছে, এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে সৃষ্টি হওয়া পরিস্থিতি।
অন্যদিকে কয়েকজন পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তাদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘিরে দিনভর কলেজ ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা চলতে দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
